Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২৫, ২০২৪

জনসেবায় বেনিয়ম বরদাস্ত নয়, পুরো প্রতিনিধিদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল রুখতে গড়া হবে ভিজিলেন্স কমিটি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জনসেবায় বেনিয়ম বরদাস্ত নয়, পুরো প্রতিনিধিদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল রুখতে গড়া হবে ভিজিলেন্স কমিটি

নবান্নে সোমবার পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৈঠকের শুরুতেই চেনা আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরুতেই পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, টাকা নিয়েও যথাযথ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছেনা। বৈঠকের শুরুতে মমতা বলেন,  পুরসভার কাজ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। তখন তিনি উপস্থিত পুরপিতাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ আমি বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি, কোথাও যখন দখলদারি চলছে, তখনও কোনও অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না। কেউ টাকা খাওয়াচ্ছে, কেউ টাকা খাচ্ছে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে রাজ্যের স্বচ্ছ পরিচয় এতে নষ্ট হচ্ছে। মানুষ যদি উন্নয়নের সুবিধা না পায়, তবে পুরপ্রশাসন রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তি়নি।

হাওড়ার দুর্বল পরিষেবা ব্যবস্থা নিয়ে রনং দেহি মেজাজে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। গতবারের মেয়র ডঃ রথীন চক্রবর্তীর নাম করে বলেন, ‘হাওড়াটাকে ১২টা বাজিয়ে দিয়ে গিয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স যাওয়ার জায়গা নেই। নো অ্যাকশন। কারণ প্ল্যান পাশ করার জন্য মানুষকে অনেক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনলাইনে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। তাতেও কাজ হয়নি। উল্লেখ্য, ডঃ রথীন চক্রবর্তী এখন পদ্ম শিবিরের নেতা।

বালি পুরসভা টেন্ডার দুর্নীতির নিয়েও নিজের ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন তিনি। বললেন, বালির এস ডি ও কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? নিজেরা টেন্ডার দিচ্ছেন, কার থেকে কতটা খাচ্ছেন জানি না। কে খাচ্ছেন, কে খাচ্ছেন না জানি না। নিশ্চয় দিয়েই খাচ্ছেন।

টেন্ডার দুর্নীতি নিয়ে সরব মমতা বলেন, লোকালি কোনও টেন্ডার করতে দেব না, সব কেন্দ্রীয়ভাবে হবে।’ তিনি এর জন্য একটি কমিটি তৈরির প্রস্তাব দেন। এই কমিটিতে থাকবেন- মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, সেচ দফতরের সচিব, সিপি, ডিজি, এডিজি আইন-শৃঙ্খলা।

পুরসভা তথা শহরাঞ্চলের নির্বাচনের ফলাফলে যে তিনি মোটেও খুশি নন তা বুঝিয়ে দিলেন মমতা। বে আইনি নির্মাণ নিয়ে বললেন, ‘আমার বাড়ি থেকে শুরু করুন’– বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরব মমতা। বলেন, “হাতিবাগান, গড়িয়াহাটের অবস্থা খারাপ। ওয়েবেলের কাছে দেখলাম কত দোকান বসেছে, সবাই আউটসাইডার। নোংরা করে রেখে দিয়েছে। কেন নতুন একটা জোন করা হচ্ছে না? বেআইনিভাবে চারতলা-পাঁচ তলা তোলা হচ্ছে, কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। দুএকজনকে গ্রেফতার করুন, দু-একটা নির্মাণ ভাঙুন। আমার বাড়ি থেকে শুরু করুন। কেন বেআইনি কোনও জিনিস আমরা মানব ?’

রাজ্যের সমস্ত পুরসভার সভাপতিরা উপস্থিত থাকলেও তাহেরপুরের বাম শাসিত পুরো বোর্ড ও ঝালদা পুরসভাকে এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হলে পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘এটা আমাদের টেকনিক্যাল মিটিং। যে যে পুরসভার দরকার, তাদের ডাকা হয়েছে। যেগুলো দরকার নেই, ডাকা হয়নি। অকারণে কেন চেয়ারম্যানদের কলকাতায় টেনে আনা হবে? যেখানে সমস্যা সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করবেন, দরকার না থাকলে শুধু শুধু ডাকবেন কেন? ওরা হয়ত ভালভাবে চলছে, তাই যোগাযোগ করেনি।’ যদিও কাস্তে হাতুড়ি তারা শিবিরের বক্তব্য , তাহেরপুরে যদি সত্যি ভালো কাজ হয়ে থাকে , তাহলে মন্ত্রী লিখিত শংসাপত্র দিন।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। কেননা , লোকসভাতে সামগ্রিক ফল ভালো হলেও, পৌরসভা এলাকাতে ঘাস ফুল শিবিরের প্রতি মানুষের অসন্তোষ বেড়েছে । এই অবস্থা কেন হল, তার উত্তর খুঁজে বের করার জন্য আজ এই বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।

গতকাল পুরো প্রতিনিধি, পুলিশ এবং বিধায়কদের একাংশের কাজের কড়া সমালোচনা করে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী । এরপরই মঙ্গলবার সকাল থেকে বেআইনি নির্মাণ, জবর দখল নিয়ে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে । ফুটপাতে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে । বিভিন্ন পুরো অঞ্চলে জমে থাকা আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কারের কাজেও হাত লাগিয়েছেন পুরো কর্মীরা ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!