- দে । শ
- জানুয়ারি ৫, ২০২৬
এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফের চিঠি মমতার
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে তিন পাতার এই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান অনিয়মগুলি অবিলম্বে সংশোধন না হলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হতে পারে এবং বহু বৈধ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার এই বিষয়ে তৃতীয় বার কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তিনি। চিঠিতে মমতার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড স্থির করেছে নির্বাচন কমিশন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিহারে এসআইআরের সময় বংশতালিকা বা ফ্যামিলি রেজিস্টারকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা মানা হচ্ছে না।
এই প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ, বংশতালিকাকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ না-করার নির্দেশ কোনও প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিয়মিত ভাবে হোয়াট্সঅ্যাপের মতো মাধ্যমে নিত্যনতুন নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের অনুমতি ছাড়াই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ইআরও-র অজ্ঞাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও বেআইনি কাজ হয়ে থাকলে তার দায় সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচন কমিশনের উপরেই বর্তাবে।
এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়াতেও হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদের নির্দিষ্ট কোনও কারণ না জানিয়েই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের মধ্যে অকারণে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং তাঁরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। নামের বানান বা বয়সে সামান্য গরমিল থাকলেও ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি শুনানির সময় কোন কোন নথি প্রয়োজন, সে বিষয়েও ভোটারদের আগাম জানানো হচ্ছে না। এমনকি নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণপত্রও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।
শুনানিকেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-দের ঢুকতে না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এনুমারেশন পর্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজে বিএলএ-রা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। অথচ শুনানি প্রক্রিয়ায় তাঁদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা যেমন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন, তেমনই শুনানিতে বিএলএ-দের উপস্থিতি না থাকায় এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে যুক্ত আধিকারিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। কমিশনের আধিকারিক ও মাইক্রো-অবজার্ভারদের এই কাজের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না-করেই মাইক্রো-অবজার্ভাররা কাজ করে চলেছেন, যা গোটা প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
❤ Support Us





