Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ৬, ২০২৬

ধর্মতলায় শুরু মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ধর্মতলায় শুরু মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বা ‘এসআইআর’ ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, এমন অভিযোগ তুলে শুক্রবার দুপুর ২টায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধর্নায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ ও আশেপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ। উপস্থিত রয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা।

মঞ্চে উপস্থিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা স্পষ্ট। তিনি বললেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সেই ভোটাররাও, যাদের নাম ‘এসআইআর’-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।  বিশেষভাবে উপস্থিত থাকবেন সেই সব পরিবারের সদস্যরা, যারা এ প্রক্রিয়ায় কারণে তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। মমতা বলেন, তালিকায় ‘মৃত’ ঘোষণা করা হলেও তাঁরা জীবিত, তিনি তা মিডিয়ার কাছে তা প্রমাণ দেখাবেন। তিনি কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, নির্লজ্জ বেহায়া পার্টি, তাদের দালাল কমিশন। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। কমিশনের খাতায় ওঁরা ‘মৃত’, আজ আমরা তাদের প্যারেড করাব। আমরা তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই সরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রক্রিয়ার শুনানি চলাকালীন তিনি ভুক্তভোগী ভোটারদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে পৌঁছে অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তার পরেও বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম স্রেফ মুছে ফেলা হয়েছে এবং আরও ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার এখনও বিচারাধীন। গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে ভোটের অর্থ কী? তিনি উল্লেখ করেন, ইআরওরা ফাইনাল তালিকা প্রকাশের পরও দিল্লির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, এমন কোনো দরজা নেই যেখানে তিনি ঠক-ঠক করে যাননি। নির্বাচন কমিশন থেকে সুপ্রিম কোর্ট সর্বত্র গিয়েছেন, তবু এখনো বহু নাম তালিকা থেকে বাদ রয়েছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে, বাংলার মানুষের ভোটরক্ষার স্বার্থে শুক্রবার থেকে তিনি রাস্তায় বসছেন। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল মঞ্চে মমতার সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আছেন শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজন ভোটার ছাড়াও, রয়ে যাওয়া ‘ভুয়ো ভোটার’-দের প্রসঙ্গেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তৃনমূলনেত্রী। এর আগে মমতা ও অভিষেক একাধিকবার মঞ্চে এই ধরনের ভোটারদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সচেতন করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও মমতা ‘ভূত’ ভোটার দেখিয়েছিলেন। এদিন, মিছিলের মাধ্যমে তৃণমূলপন্থী বিএলওরা ধরনা মঞ্চের দিকে রওনা হন। তারা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের এবং বিএলওদের হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মমতা এবং দলের নেতারা অভিযোগ করেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শহর কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে সমর্থন জুগিয়েছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মেট্রো চ্যানেলে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে তিনি টানা কয়েক দিন ধরনা দিয়েছিলেন। আজও তিনি তার ঐতিহ্য ধরে রেখে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!