Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৬

ব্রিগেড থেকে ‘১১২’ সর্বভারতীয় জরুরি হেল্পলাইন পরিষেবার সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ব্রিগেড থেকে ‘১১২’ সর্বভারতীয় জরুরি হেল্পলাইন পরিষেবার সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

শরতের ভোর, বাতাসে আগমনী বার্তা। মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রপাঠ, গঙ্গার ঘাটে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ আর আকাশে কাশফুলের দোল — মহালয়া মানেই বাঙালির মনে পুজোর সূচনা। সেই চিরপরিচিত আবহকে এ বার আরও বর্ণময় করে তুলতে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে মহাসমারোহে দুর্গার আবাহনের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। ঢাকের বোলে মুখরিত হবে শহর। তার সঙ্গে থাকবে শঙ্খধ্বনি, হাজার কণ্ঠে উলুধ্বনি, সঙ্গীত, নৃত্য আর আধুনিক প্রযুক্তির আলোর খেলা। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন হাজার ঢাকি একযোগে ঢাক বাজাবেন, আর আকাশে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হবে দুর্গার আবাহনের নানা দৃশ্য। এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়ারও আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

শনিবার সন্ধ্যায় ইডেনের গ্যালারিতে বিপুল দর্শকসমাগমের মধ্যে দিয়ে শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার আগে রেড রোড ধরে এগোবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রাস্তার দু-পাশে তৈরি করা হয়েছে একাধিক মঞ্চ। সেখানে বাংলার বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নাচ, গান ও হস্তশিল্পের নানা দিক তুলে ধরা হবে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যপাল আর এন রবি খোলা জিপে ইডেন উদ্যানে পৌঁছবেন বলে আয়োজকদের পরিকল্পনা। সেখানে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাজসজ্জা ও প্রযুক্তির আয়োজনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। লেজার শো, থ্রি-ডি প্রজেকশন ম্যাপিং আর ড্রোনের সমন্বয়ে আকাশ ও মঞ্চ জুড়ে তৈরি হবে আলোর বর্ণময় দৃশ্য। আতসবাজির রোশনাই এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য সেই আয়োজনের আকর্ষণ আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩০০ জন পেশাদার নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনারও পরিকল্পনা রয়েছে।

বাঙালির দুর্গাপুজোর আবহে ঢাকের গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই ঢাকের আওয়াজে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পাড়ায় পাড়ায়। সেই পরিচিত বাদ্যকেই এ বার বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। তিন হাজার ঢাকির একযোগে বাদন এবং এক হাজার মানুষের উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির আয়োজনকে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিপুল আয়োজনের মহড়াও চলছে বলে জানা গিয়েছে। ঢাকের ছন্দের সঙ্গে আধুনিক আলোকপ্রযুক্তির মেলবন্ধনই এ বারের অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব। এক দিকে বাংলার প্রাচীন উৎসব-ঐতিহ্য, অন্য দিকে ড্রোনের সাহায্যে আকাশে দৃশ্য নির্মাণ—দুইয়ের সমন্বয়ে মহালয়ার সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে তুলতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। দুর্গার আবাহনের দৃশ্য যখন আকাশে আলোর রেখায় ফুটে উঠবে, তখন তার সঙ্গে ঢাক ও শঙ্খের সম্মিলিত ধ্বনি অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা।

ইডেনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সঙ্গীতের আয়োজনও থাকছে বিস্তর। উপস্থিত থাকার কথা শান, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র এবং শান্তনু মৈত্রের। বাংলা লোকসঙ্গীতের জনপ্রিয় ব্যান্ড দোহারও অনুষ্ঠানে অংশ নেবে। যন্ত্রসঙ্গীতে থাকবেন দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য শিল্পী। বাংলার সঙ্গীত, লোকঐতিহ্য এবং আধুনিক পরিবেশনার সমন্বয়ে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু মূল মঞ্চের পরিবেশনাই নয়, রেড রোডের বিভিন্ন মঞ্চেও থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজ্যের ১২টি জেলার লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও হস্তশিল্প তুলে ধরতে পৃথক প্যাভিলিয়ন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতার এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচিতিও তুলে ধরতে চাইছে প্রশাসন।

কলকাতার মহালয়া উদ্‌যাপনকে শুধু শহরের দর্শকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের কাছেও এ আয়োজন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে এই অনুষ্ঠানের সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইডেনের গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ যাঁদের হবে না, তাঁদের পাশাপাশি জেলার বাসিন্দারাও যাতে এই উদ্‌যাপনের অংশ হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফলে কলকাতার মূল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।মহালয়ার দিন থেকেই শারদোৎসবের সূচনা হলেও এ বারের আয়োজনের পরিসর আরও বিস্তৃত। রাজ্য সরকারের পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের যৌথ উদ্যোগে ১০ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোকসজ্জার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের একাধিক স্থানে উৎসবের প্রথম বড় পর্ব আয়োজনের কথা।

কলকাতার বাইরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দান এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মেলা প্রাঙ্গণে ১২ ও ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গাপুরের গান্ধী ময়দানে ১১ ও ১২ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর মালদহের বিবেকানন্দ মাঠ এবং বহরমপুরের ময়দানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে। ১৪ ও ১৫ অক্টোবর নিউ দিঘার সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সান্ধ্য অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের পাশাপাশি জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনাও থাকছে। এই সব অনুষ্ঠানে পৌষালী, তীর্থ ভট্টাচার্য, রাজ বর্মণ-সহ একাধিক শিল্পী এবং সঙ্গীতদলের অংশ নেওয়ার কথা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চাইছে প্রশাসন।

মহালয়ার আবহে গঙ্গার দুই পাড়কেও সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এবং কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক, বাবুঘাট, কুমারটুলি ঘাট ও প্রিন্সেপ ঘাট-সহ একাধিক এলাকায় আলোকসজ্জার পরিকল্পনা রয়েছে। মিলেনিয়াম পার্ক ও বাজে কদমতলা ঘাটে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি গঙ্গা আরতির আয়োজনও থাকছে। মহালয়ার সঙ্গে গঙ্গার ঘাটের সম্পর্ক নিবিড়। ভোরে তর্পণের জন্য গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে ভিড় করেন বহু মানুষ। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে সন্ধ্যার আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সংযোগ ঘটিয়ে শহরের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিকেও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইডেনের অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে কলকাতা পুলিশের তরফে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডের রাজা উডমন্ট স্ট্রিট থেকে হেস্টিংস ক্রসিং পর্যন্ত অংশে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে অবশ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণির কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, শোভাবাজার স্ট্রিট এবং নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাবুঘাটগামী বাসগুলিকে হেয়ার স্ট্রিট ও স্ট্র্যান্ড রোডের সংযোগস্থল থেকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দেড় হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। সড়কপথে নজরদারির পাশাপাশি জলপথেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। জনসমাগম সামলানো, দর্শকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ এবং অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে যানজট এড়ানো — সব দিকেই বিশেষ নজর রাখছে কলকাতা পুলিশ।

এদিকে, মহালয়ার সকালে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের পুলিশি পরিষেবায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে ‘১১২’ সর্বভারতীয় জরুরি হেল্পলাইন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৪৫০টি চারচাকা গাড়ি এবং ৪৫০টি মোটরবাইক। পাশাপাশি, পুজোর আগেই রাজ্য পুলিশে ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা, বাহিনীর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে এ দিন একাধিক কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।  জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত পুলিশের সাহায্য পান, সেই লক্ষ্যেই ‘১১২’ হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ। বিপদে পড়ে এ নম্বরে ফোন করলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাহায্য করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকের বিপদের সময়ে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। অভিযোগ পাওয়ার পরে দ্রুত পদক্ষেপ করাই বাহিনীর দায়িত্ব। নতুন হেল্পলাইন এবং যানবাহন সেই কাজকে আরও গতিশীল করবে বলে প্রশাসনের আশা।

পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে এ দিন যথেষ্ট কড়া অবস্থান নিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। অতীতের পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা ও আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা বাহিনীর উপর হামলা চালানোর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, কোনও দুষ্কৃতী বা আইনভঙ্গকারী পুলিশের গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস দেখালে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পুলিশকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন পুলিশি পদক্ষেপের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও বার্তা দিয়েছেন তিনি। নারী নির্যাতন, মাদক কারবার ও দুর্নীতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীর উপর রাজনৈতিক চাপ কমানোর বার্তাও দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুলিশি পরিষেবার দুরবস্থা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগে ১০০ নম্বরে ফোন করেও অনেক সময়ে সাধারণ মানুষ সাড়া পেতেন না। পুলিশকে কার্যত ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’ করে রাখা হয়েছিল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশি পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে পুলিশি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেছেন বলে জানান তিনি। ব্যারাকপুর কমিশনারেট থেকে তারাতলা, ভবানী ভব ন— বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পুলিশি কাজকর্ম ও পরিকাঠামো পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কন্ট্রোল রুমের কাজকর্ম, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘হিডকো’ ও ‘এনকেডিএ’-র সহযোগিতায় তাঁদের হাতে রেনকোট তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়াতেও যাঁদের মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাঁদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

পুলিশি পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসাবে ৪৫০টি চারচাকা গাড়ি এবং সমসংখ্যক মোটরবাইক দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে। প্রশাসনের পরিকল্পনা, প্রতিটি থানায় একটি করে নতুন চারচাকা গাড়ি ও একটি মোটরবাইক পৌঁছে দেওয়া হবে। নতুন যানবাহন চালানোর জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগ করা হয়েছে বলেও এ দিনের অনুষ্ঠানে জানানো হয়। নতুন গাড়ি ও মোটরবাইক হাতে এলে টহলদারি, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনো, অপরাধের খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, জরুরি পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ওঠে। নতুন যানবাহন এবং ‘১১২’ হেল্পলাইন সেই সমস্যা কতটা কমাতে পারে, এখন নজর থাকবে সে দিকেই। তবে শুধু যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই পুলিশি পরিষেবার উন্নতি সম্ভব নয়। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, তদন্তের মান, থানায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের ব্যবহার এবং অপরাধের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ — এ বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের ঘোষণার বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে সেই পরিষেবাগুলি কতটা কার্যকর হয়, তার উপরেও।

রাজ্যে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও এ দিন তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ১৫৫ জন পুলিশকর্মী। উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যা ২০০ বলে দাবি করেন তিনি। আগের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশকর্মীর সংখ্যা ছিল ১০৫—এমনও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী না থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং তদন্তের কাজে সমস্যা দেখা দেয়। তাই শুধু আধুনিক সরঞ্জাম নয়, বাহিনীতে পর্যাপ্ত কর্মী থাকাও জরুরি। পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য পুলিশের নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও এ দিন বড়ো ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেই জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!