- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ‘বনতারা’-র শাখা ? শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান নিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর
যেমন কথা, তেমনই কাজ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই গত কয়েক দশকের শিল্প খরা কাটিয়ে বাংলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সে লক্ষ্যেই এবার মুম্বইয়ে গিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবারই শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বাই সফরের খবর ছড়িয়েছিল। সূত্রের খবর, রাতের দিকে মুম্বাইয়ে আম্বানিদের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’য় পৌঁছন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর ছেলে অনন্ত আম্বানি। এরপর তাঁদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে আশাপ্রকাশ করেন মুকেশ আম্বানি। রিলায়েন্স বাংলায় আরও বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে রাজ্যে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে বৈঠকের সবচেয়ে বড়ো চমক ‘বনতারা’কে ঘিরে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য গুজরাটে রিলায়েন্সের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘বনতারা’। এবার পশ্চিমবঙ্গেও তার একটি নতুন শাখা খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আম্বানি পরিবার রাজ্যে ‘বনতারা’র শাখা খোলার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাস্তবায়িত হলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি বাংলার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে আম্বানিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা নিজেই এক্স হ্যান্ডলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘অ্যান্টিলিয়া’য় কাটানো মুহূর্তের কয়েকটি ছবিও তিনি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, মুকেশ আম্বানির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি গণেশের কাছে প্রার্থনা জানানোর সুযোগও হয়েছে তাঁর। দেশবাসীর সুখ-শান্তি কামনা করে আশীর্বাদ চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে মুকেশ আম্বানি ও তাঁর পরিবারের হাতে মা কালীর একটি বিশেষ মূর্তি তুলে দিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্প বৈঠকের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি আম্বানিদের জানিয়েছেন। শিল্পপতিরা এগিয়ে এলে রাজ্য সরকার তাঁদের স্বাগত জানাবে বলেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুম্বইয়ের এই বৈঠকের পর রাজ্যে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং ‘বনতারা’র শাখা তৈরির সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় আরও বিনিয়োগ করলে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
❤ Support Us






