Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৫, ২০২৬

সংশোধনাগারে মোবাইল চক্রে কড়া পদক্ষেপ, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংশোধনাগারে মোবাইল চক্রে কড়া পদক্ষেপ, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারের ভেতরে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং জেল থেকে অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, জেলের ভেতরে বসেই অপরাধীরা বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে হুমকি, তোলাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের ছক কষছে। এবার এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, গোটা ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কলকাতা পুলিশ, কারা দফতর এবং দমকল বিভাগের যৌথ বাহিনী বিশাল তল্লাশি অভিযান চালায়। ডিজি (কারা) রমেশ বাবুর নেতৃত্বে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে জেলের ভেতর থেকে মোট ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এত সংখ্যক মোবাইল কীভাবে সংশোধনাগারের ভেতরে পৌঁছল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঘটনার জেরে গাফিলতির অভিযোগে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘোড়াইকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, শুধু প্রেসিডেন্সি জেল নয়, দমদম ও বহরমপুর সেন্ট্রাল জেল থেকেও একই ধরনের অভিযোগ আসছিল। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জেলের অভ্যন্তরে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধচক্র সক্রিয় রাখা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে জেলকর্মীদের একাংশের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ শাহজাহানের মতো কুখ্যাত অপরাধীরাও জেলে বসে নিজেদের নেটওয়ার্ক চালানোর চেষ্টা করছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে এই ধরনের বিপজ্জনক বন্দিদের সাধারণ সেল থেকে সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন সেলে রাখার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এছাড়াও শুক্রবার দুপুর থেকেই রাজ্যের সমস্ত সংশোধনাগারে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রীর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, শুধু বন্দিরাই নন, বাইরে থেকে কেউ যদি জেলের ভেতরে থাকা কোনও বন্দিকে ফোন করেন, তাহলে সেই ব্যক্তিকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের পর এখন নজর সিআইডি তদন্তের দিকে। তদন্তে উঠে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!