Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মে ১, ২০২৫

টলিপাড়ায় অব্যহত দ্বন্দ্ব, অর্নিবাণ-পরমব্রতদের ভিডিও বার্তা, আজ মেগা মিটিং

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টলিপাড়ায় অব্যহত দ্বন্দ্ব, অর্নিবাণ-পরমব্রতদের ভিডিও বার্তা, আজ মেগা মিটিং

দীর্ঘদিন ধরে টালিগঞ্জের ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ড সংঘাতে উত্তপ্ত ইন্ডাস্ট্রি। শ্রমিক দিবসে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই পক্ষ। তার আগে কলাকুশলির উদ্দেশ্যে অর্নিবাণ- পরমব্রতদের ভিডিও বার্তা প্রকাশ। পরিচালক-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা, টেকনিশিয়ানদের কাজে বাধা, বিদেশি প্রোজেক্ট হাতছাড়া, শুটিং বন্ধ, রাজনৈতিক চাপ ও আইনি লড়াই ঘিরে অনিশ্চয়তায় টলিউডের ভবিষ্যৎ। আগামীকাল মুম্বইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে ভারতের প্রথম বিশ্বমানের অডিও-ভিজ্যুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট সামিট বা ওয়েভস-২০২৫-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ফেডারেশন ও ডিরেক্টরস গিল্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন আবারও নতুন করে উত্তাল টলিপাড়া। একদিকে পরিচালকরা বলছেন, ফেডারেশনের একতরফা নিয়ম এবং হুমকি-চাপের কারণে বহু ছবি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বিদেশি প্রোডাকশন বাংলার বাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফেডারেশনের দাবি, পরিচালকরা তাঁদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, প্রথাগত নিয়ম ভাঙছেন। এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল গত বছর। বারবার ‘অসহযোগিতা’ ও ‘চাপ সৃষ্টি’-র অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল রাহুল মুখোপাধ্যায়ের শুটিং নিয়ে। বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রযোজনায় কলকাতায় একটি ছবি বানানো নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। কারণ ফেডারেশন চরকির কাছ থেকে চারগুণ বেশি টাকা দাবি করে, যেহেতু তাঁরা বিদেশী কোম্পানি। তারপর সেই জল অনেকদূর গড়িয়েছে। বহু ছবির কাজ বন্ধ হয়েছে। ফেডারেশনের তরফে বলা হয়েছে, যে নিয়মগুলোর বিরোধিতা করা হয়েছে সেগুলো পাল্টে গেলে টেকনিশিয়ানদের ক্ষতি হবে ৷ পরিচালক ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরীর কথায়, চরকি একটি বিদেশী সংস্থা এবং তারা আমাদের দেশে এসে বহুবহু কনটেন্ট বানাত। এই কাজগুলো বন্ধ হয়ে গেল। চরকি যে ফেডারেশনের গা জোয়ারির জেড়ে বাংলাদেশের ফিরে গেল, এতে যেমন পরিচালকদের কাজ গেল, তেমনি বহু টেকনিশিয়ান কাজ হারালো। তাঁদের দের কথা এই যে এতগুলো মানুষ কাজ হারালো, তাতে ক্ষতিটা কার হল? কারা তাদের স্বার্থে আঘাত করলেন। সেই সময় কর্ম বিরতি তুলে নেওয়া হয়েছিল এই কারণেই, কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন একটি কমিটি গঠন করা হবে। এবং সে কমিটির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা হবে। পরিচালকরা তিনমাস অপেক্ষা করেও কোনো সুরাহা পান নি বলে অভিযোগ তুলেছেন।

পরিচালক সুদেষ্ণা রায় বলেন, ‘প্রথমত এই নিয়মগুলো ফেডারেশনের নিজস্ব ৷ এগুলো একতরফা ভাবে বানানো হয়েছে ৷ ফেডারেশন একটা ট্রেড ইউনিয়ন ৷ ভারতের কোথাও কোনও আইনে কোনও ট্রেড ইউনিয়ন কোনও নিয়ম বানাতে পারে না ৷ এটা দেশের আইন ও সংবিধান বিরোধী৷ টেকনিশিয়ানদের বলা হয়েছে, পরিচালকরা নাকি তাদের বিরুদ্ধে। একদম ভুল! তারা যেমন দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ঠিক আমরা তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু প্রবল চাপ এবং হুমকির মুখে তারা তাদের মনের কথা সহজে বলতে পারেন না। তবুও যদি অপর প্রান্তের দিবারাত্রি অপপ্রচারের ফলে কোন সন্দেহ হয়ে থাকে তবে আমরা এর মাধ্যমেই জানানোর চেষ্টা করছি। ভারতবর্ষের কোন ইন্ডাস্ট্রিতে কোন ফেডারেশনে এই ধরনের কোন নিয়ম পালন করেন না। যে নিয়ম গুলো নিয়ে আমরা বারবার কথা বলতে চেয়েছি সেই নিয়মগুলো নিয়ে ফেডারেশন তরফে আমাদের সাথে কোনোরকম আলোচনা করা হয়নি। এই নিয়মগুলো ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যতে নেই। ফলও তো কোন অন্য পরিচালক বা প্রযোজক, খুব দরকার না পড়লে এই রাজ্যে কাজ করতে আসতে চাইছেন না।’ পরিচালকরা ফেডারেশনের পুরনো নিয়মগুলি রদবদল ও পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিদুলা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগে বাইরের কত শুটিং এখানে হত ৷ এখানেওবা কটা ছবি হচ্ছে ৷ ২০২৪-এ মাত্র ৩৬টি ছবি হয়েছে ৷ যা বিগত ১৫ বছরের সর্বনিম্ন’। পরমের কথায় এই নিয়মের ফলে টেকনিশিয়ানদের কাজ কমেছে কি না, তা তারাই ভালো বলতে পারবে ৷ এদিকে, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিনি নতুন গিল্ড ছেড়ে পুরনো গিল্ডে ফিরেছেন, বলেন, এই লড়াই পরিচালকদের নয়, বরং প্রযোজকদের। তাঁর মতে, পরিচালকদের সামনে রেখে বিপ্লব করতে বলা হলেও প্রযোজকরা চুপ থাকছেন, খরচ করবার সময় পিছু হটছেন।

সম্প্রতি, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়, ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পরিচালক, টেকনিশিয়ানদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তাঁরা জানান, এই বিরোধ পরিচালক বা কলাকুশলিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং ফেডারেশনের এমন কিছু নিয়ম ও আচরণবিধির বিরুদ্ধে, যা তারা একতরফাভাবে তৈরি করেছে। সেই সব নিয়মের ফলে যেমন প্রযোজনা খরচ বেড়েছে, তেমনই টেকনিশিয়ানদের কাজের সুযোগ কমেছে।প রমব্রত এক উদাহরণ দিয়ে বলেন, চরকির প্রযোজনায় একটি ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায় শুধুমাত্র ফেডারেশনের দাবিকৃত অতিরিক্ত অর্থের কারণে। এর ফলে শুধু পরিচালক নয়, প্রতি প্রোজেক্টে যুক্ত ৫০-৬০ জন টেকনিশিয়ানও কাজ হারান। পরিচালকদের অভিযোগ, চাপ সৃষ্টি করে আর ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট পরিচালকদের সঙ্গে টেকনিশিয়ানদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকমাস আগে, সুদেষ্ণা রায়ের শুটিং বাতিল হওয়া নিয়ে বিতর্ক বাড়ে। অভিযোগ, তাঁর সিডিউল ঘোষণার পর অলিখিত নির্দেশে টেকনিশিয়ানরা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনাকেও পরিচালকদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে তোলা হয়েছে। আদালত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিচালকদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। কোনো কোড অফ কন্ডাক্ট না থাকায় ইউনিক কার্ড বা মেম্বার টু মেম্বার নিয়ম বেআইনি।

অর্নিবাণ, পরমব্রতরা ফেডারেশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনায় বসলে হয়তো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। তবে তারা ভেবেছেন, শুধুমাত্র চোখ রাঙিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি নিজের আয়ত্তে রাখবে। আমরা আর কোন উপায় না দেখে বাধ্য হয়েছি মহামান্য হাইকোর্টের কাছে যেতে। আমাদের কাছে সত্যি আর কোনো রাস্তা নেই। ভিডিও বার্তা আসবার পর, শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১ মে ডাকা হয়েছে ফেডারেশনের মেগা মিটিং। একই দিনে রয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও। দুই বৈঠককে ঘিরেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। বিশেষ করে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আর সুদেষ্ণা রায়ের মতো তারকা পরিচালকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই বৈঠকে আদৌ কোনো সমাধান সূত্র উঠে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার। প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস।

অন্যদিকে, আগামীকাল মুম্বইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে ভারতের প্রথম বিশ্বমানের অডিও-ভিজ্যুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট সামিট বা ওয়েভস-২০২৫-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘সৃষ্টিশীলদের সংযোগ, দেশের মিলন’ – এই স্লোগানে শুরু হতে চলেছে চারদিনের এই সম্মেলন, যা ভারতকে বিশ্ব মিডিয়া, বিনোদন ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরবে। এই সম্মেলনে এক ছাতার তলায় একত্রিত হবে চলচ্চিত্র, ওটিটি, গেমিং, কমিকস, ডিজিটাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্রডকাস্টিং এবং উদীয়মান প্রযুক্তি। ওয়েভস-২০২৫ ভারতের মিডিয়া ও বিনোদন শিল্পের বিস্তৃত প্রদর্শনী হতে চলেছে। ভারতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানে ২৫টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে ২০২৯ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার উন্মোচনের লক্ষ্য স্থির করেছে ভারত। এতে ৬ হাজারেরও বেশি ক্রেতা, ৫ হাজারের বেশি বিক্রেতা এবং ২ হাজার প্রকল্প থাকবে। এই বাজার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!