Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫

খসড়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য জুড়ে বিভ্রান্তি । ভবানীপুরে বাদ ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের নাম, স্ক্রুটনির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
খসড়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য জুড়ে বিভ্রান্তি । ভবানীপুরে বাদ ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের নাম, স্ক্রুটনির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

মঙ্গলবার বহু প্রতীক্ষিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন । সেই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে বাদ পড়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৭ জন ভোটারের নাম । এত সংখ্যায় নাম বাদ যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের ২৭৭ জন বুথ লেভেল এজেন্ট এবং ৮ জন কাউন্সিলরের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে । কেউ জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত বলে নথিভুক্ত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে । শুনানির সময় প্রত্যেক ভোটারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। নথি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে তাঁদের ‘May I Help You’ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শোনা যাচ্ছে ৪৪ হাজার নাম বাদ পড়েছে। যত নাম বাদ গেছে, সব আবার ভালো করে চেক করুন। স্ক্রুটিনি করুন । কেন নাম বাদ পড়েছে, পার্ট ধরে ধরে সব যাচাই করতে হবে।”
একইসঙ্গে বন্দর এলাকায় ৬৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভ উগরে দেন ফিরহাদ হাকিম । তিনি বলেন, “বিজেপি তো এখনও এমন কেউ জন্মায়নি যে বন্দর এলাকায় ফিরহাদ হাকিমকে হারাবে বা ভবানীপুরে ম্যাডামকে হারাবে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় চলে, আর ভোট দেবে মানুষ।” তাঁর কেন্দ্র থেকে এত নাম বাদ পড়ার পর দলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এই প্রশ্নে ফিরহাদ জানান, সে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।

খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও বাদ গেছে ১০ হাজার ৫৯৯ জন ভোটারের নাম । নন্দীগ্রামের ৭৯ নম্বর বুথে ভোটার শুভেন্দু অধিকারী। নন্দনায়কবাড় প্রাইমারি স্কুলের ওই বুথে বাদ পড়েছে ১১টি নাম । অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভোট দেন ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের ২০৭ নম্বর বুথে । সেখানে বাদ গেছে ১২৭ জন ভোটারের নাম ।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বহু ক্ষেত্রে জীবিত ভোটারদের মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়ে গিয়েছে জীবিত ভোটারদের তালিকায়। বাদ গেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যার এক অধ্যাপকের নামও ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বিধানসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের ৯৯ নম্বর বুথে এমনই ঘটনা সামনে এসেছে । ওই বুথের ভোটার মীরা নায়েক ও রসিদা বিবির নাম মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে । তড়িঘড়ি বিএলও নারায়ণ দাস তাঁদের দিয়ে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করিয়ে সংশোধনের আবেদন জমা দিয়েছেন।

ক্ষোভ উগরে দিয়ে রসিদা বিবি বলেন, “এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলাম। আজ দেখছি তালিকায় নামই নেই। বিডিও অফিস জানিয়েছে, ভুল করে আমাদের মৃত দেখানো হয়েছিল। নাম না থাকলে সমস্ত সরকারি পরিষেবা থেকেই তো বঞ্চিত হব।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপ বিধানসভায় মোট ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটারের মধ্যে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৩,৪২৪ জন । একই ছবি হুগলি জেলাতেও । সেখানে মোট ভোটার ৪৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৯ জন হলেও খসড়া তালিকায় নাম ওঠেনি ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৩ জনের । বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, জীবিত ভোটারদের মৃত দেখানো হয়েছে, আবার মৃতদের নাম উজ্জ্বলভাবে রয়ে গিয়েছে জীবিতদের তালিকায়।

কোচবিহার ছাড়াও জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই খসড়া তালিকায় এই ধরনের গুরুতর ভুল ধরা পড়েছে। ফলে বহু ভোটার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের আশা, নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ডাক দিয়ে এই ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা করবে— কিন্তু কবে, তা কেউ জানেন না।

এর পাশাপাশি শুধু মৃত দেখানো নয়, বহু ক্ষেত্রে কোনও কারণ ছাড়াই নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। কলকাতা পুরসভার ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশদ্রোণীর কংগ্রেসনগর ও নিরঞ্জনপল্লি এলাকায় প্রায় ৯৭ জনের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!