Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১৮, ২০২৬

ভোটের মুখে ফের ভাঙন অসমে। ‘হাত’ ছেড়ে পদ্মে যোগ সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটের মুখে ফের ভাঙন অসমে। ‘হাত’ ছেড়ে পদ্মে যোগ সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের

অসমে নির্বাচনের আবহে ফের চাঞ্চল্য। তৃতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে আবারও বড়ো ধাক্কা খেল কংগ্রেসে। দলীয় অন্দরের অসন্তোষ, টিকিট বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ এবং ক্রমবর্ধমান ভাঙনের জেরে মঙ্গলে দল ছেড়েছিলেন বর্তমান সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ। বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন। তাঁর পদ্মযোগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চাপ বাড়ল কংগ্রেস শিবিরে।

দলত্যাগের ঠিক একদিন পরই বিজেপিতে যোগ দেন নগাঁওয়ের দু-বারের সাংসদ। তাঁর যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন রাজ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এদিন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া-র উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান বরদলৈ। যোগদান পর্বে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেন, ‘একজন বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ আজ বিজেপিতে যোগ দিলেন। প্রদ্যুৎ বরদলৈ একজন অভিজ্ঞ নেতা। তাঁর আগমন আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।’ তিনি আরও জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগেই এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছিল এবং বরদলৈয়ের সাংসদ পদে এখনো তিন বছর মেয়াদ বাকি রয়েছে।

কংগ্রেস নেতার দলবদলের ঘটনাকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। কারণ, এর আগেই অসম কংগ্রেসে ভাঙনের সুর শোনা গিয়েছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন কুমার বরাহ-র বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বরদলৈয়ের প্রস্থান, অসম কংগ্রেসের ভিত আরও দুর্বল করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।  দলত্যাগের আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে-র উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত পদত্যাগপত্র পাঠানপ্রদ্যুৎ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমস্ত পদ, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’ সংক্ষিপ্ত হলেও চিঠির ভাষায় স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ইঙ্গিত।

তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বিষয়টিকে প্রশমিত করারই চেষ্টা করেছে। দলের শীর্ষ নেতা জিতেন্দ্র সিং বলেন, ‘বরদলৈয়ের শিরায় কংগ্রেসের রক্ত বইছে। আমরা একই পরিবারের সদস্য।’ অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই প্রদ্যুৎ বরদলৈকে লক্ষ্য করে পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে এবং তা বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।’ তবু দলীয় অন্দরের ফাটল যে ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, তা আর আড়াল করা যাচ্ছে না। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই সুর। তিনি স্বীকার করেছেন, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষই দলত্যাগের অন্যতম কারণ। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রও জানাচ্ছে, প্রার্থী নির্বাচনে একাধিক বিষয়ে বরদলৈয়ের আপত্তি ছিল, বিশেষ করে তাঁর প্রভাবাধীন কেন্দ্রগুলিতে কিছু নেতার পুনরায় মনোনয়ন নিয়ে। এ দিকে প্রদ্যুতের ছেলে প্রতীক বরদলৈকে মার্গারিটা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। বাবার বিজেপি যোগের পর ছেলেও কংগ্রেস ছাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি শুধুই ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়, বরং বৃহত্তর সংগঠনিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এক সময় তরুণ গগৈ মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রাক্তন বিধায়ক এবং দলের ইশতেহার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বরদলৈ ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী নবজ্যোতি তালুকদারের দলত্যাগের ঘটনাও একই দিনে সামনে আসায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে।  বর্তমানে অসমে কংগ্রেসের হাতে যে অল্পসংখ্যক লোকসভা আসন রয়েছে, তার মধ্যে একটির পতন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলেই আশঙ্কা। অন্যদিকে বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করার কৌশল নিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!