- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
২০২৬-এর নির্বাচনে একাই লড়বে কংগ্রেস, দলীয় সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা
বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক এখন অতীত—দলীয় কর্মী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় এই অবস্থান জানাল প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘোষণা করেন, আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস একাই লড়বে এবং রাজ্যের সমস্ত আসনেই প্রার্থী দেবে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গোলাম আহমদ মিরও প্রকাশ্য সভায় এই সিদ্ধান্তে সায় দেন।
বুধবার কাটোয়া শহরের রবীন্দ্র পরিষদ হলে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও পর্যবেক্ষক গোলাম আহমদ মির, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা ত্রিপুরার বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মন, প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব।
শুভঙ্কর সরকার বলেন, “বামেদের সঙ্গে আগে যা কিছু সম্পর্ক ছিল, সেসব এখন অতীত। সাধারণ কর্মী ও আপামর মানুষের মতামতকে মান্যতা দিয়েই আমরা একা লড়াই করব। রাজ্যের সমস্ত আসনেই প্রার্থী দেব।” তিনি আরও জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মীরা একক লড়াইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং সেই মতামতই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জানানো হয়েছে।
গোলাম আহমদ মির বলেন, “সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাধারণ কর্মীদের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছেন। দল পশ্চিমবঙ্গে এককভাবে ভোটে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বৈঠকের পরেই কি কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিল? যদিও এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে শুভঙ্কর সরকার বলেন, কংগ্রেস ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে ছিল, আছে এবং থাকবে। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। সেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেই সিপিএম নেতৃত্বের বৈঠক কংগ্রেস সহজভাবে নিচ্ছে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট যৌথভাবে লড়লেও কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি। সেই ফলাফল রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। হুমায়ুন কবীরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টিকে ঘিরে জোটের অঙ্ক বদলাতে পারে বলে জল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “এখন রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম জড়িয়ে গিয়েছে। একটা অদ্ভুত সামাজিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেটাই চ্যালেঞ্জ। আমরা বরাবরই ধর্মীয় বিভাজনের বিপক্ষে।”
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এবার তারা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয়ের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চায়। পাশাপাশি সিপিএমের সঙ্গেও দূরত্ব বজায় রেখে সংগঠন মজবুত করাই দলের মূল লক্ষ্য।
❤ Support Us






