Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৪, ২০২৫

‘কোল্ডরিফ’ সিরাপে শিশুমৃত্যু, বোতলপিছু ডাক্তারের কমিশন ১০ শতাংশ ! আদালতে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ তদন্তকারীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘কোল্ডরিফ’ সিরাপে শিশুমৃত্যু, বোতলপিছু ডাক্তারের কমিশন ১০ শতাংশ ! আদালতে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ তদন্তকারীদের

কাশি-জ্বরের মতো সাধারণ অসুখে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল ছোটো ছোটো বাচ্চারা। স্রেফ একটি সিরাপ খাওয়ার পরেই চিরঘুমে ঢলে পড়েছে ১৫টি নিষ্পাপ প্রাণ। অভিযোগ, যে সিরাপ খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে শিশুদের, তা প্রেসক্রাইব করার জন্য মোটা টাকা কমিশন পেতেন সরকারি চিকিৎসকরা। ছিন্দওয়ারায় শিশু মৃত্যুর তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত এক চিকিৎসক বোতলপিছু ১০ শতাংশ কমিশন পেতেন সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে।

গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক ডা. প্রবীণ সোনি। পেশায় একজন শিশু চিকিৎসক। কর্মস্থল পারাসিয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টার। অভিযোগ, তিনি নিয়মিত প্রেসক্রাইব করতেন ‘কোল্ডরিফ’ নামের একটি কাশির সিরাপ, যাতে মিশে ছিল ডায়েথিলিন গ্লাইকোল নামের মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ওষুধ খাবার পরই প্রস্রাবে অসুবিধা, কিডনির সমস্যা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিয়া লেভেল বেড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা যায় শিশুদের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে অনেক শিশুকে ছিন্দওয়ারা থেকে নাগপুরে স্থানান্তরিত করতে হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে একে একে মৃত্যু হয় ১৫ জন শিশুর।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তর নির্দেশ দেয়, ৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরণের ওষুধ ব্যবহার না করার জন্য। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকার তোয়াক্কা না করেই ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপ প্রেসক্রাইব করে গিয়েছেন ডঃ সোনি। শুধু তাই নয়, আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের রিপোর্ট বলছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার–এর কাছ থেকে প্রতি প্রেসক্রিপশনে ১০ শতাংশ কমিশন পেতেন ওই চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত রয়েছেন ডঃ সোনির আত্মীয়েরাও। তদন্তকারীদের দাবি, ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারের পাশেই একটি মেডিক্যাল স্টোর রয়েছে, যা তাঁর আত্মীয়দের মালিকানাধীন। এমনকি, ছিন্দওয়ারায়’কোল্ডরিফ’ সিরাপের স্টকিস্টও নাকি তাঁরই আত্মীয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পরিকল্পিত চক্র গড়ে তুলে কি এই ওষুধের ব্যবসা চালাচ্ছিলেন সোনি পরিবার?

এদিন, ডা. প্রবীণ সোনির জামিনের আর্জি খারিজ করে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক গৌতম কুমার গুজর বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত চিকিৎসক এমন একটি সিরাপ প্রেসক্রাইব করেছেন, যার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। শিশুদের মৃত্যুর সম্ভাবনা জেনেও তিনি তা বন্ধ করেননি। তিনি সব জেনে শুনেই এ কাজ করেছেন।’ তবে আদালতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। তাঁর আইনজীবী পবন কুমার শুক্লা বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখা চিকিৎসকের কাজ, কিন্তু ওষুধের গুণমান নিশ্চিত করা ড্রাগ কন্ট্রোলার দফতরের দায়িত্ব। দীর্ঘ ৩৫ বছরের চিকিৎসা জীবনে কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ দেননি ডাক্তারবাবু।’

উল্লেখ্য, ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থা স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার-এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। সংস্থাটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উৎপাদন কেন্দ্র। তদুপরি, ইডি ওই সংস্থার একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। সংস্থার মালিক রঙ্গনাথন-কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তামিলনাড়ু নিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। গত ৪ অক্টোবর ডাক্তার প্রবীণ সোনি, স্রেসান সংস্থার কর্তৃপক্ষ এবং জবলপুরের এক হোলসেলারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন পারাসিয়ার ব্লক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অঙ্কিত শেলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপের মধ্যে বিষাক্ত ক্যামিক্যাল রয়েছে, যা শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ি। তাঁর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে, অভিযুক্ত চিকিৎসক, সংস্থা, হোলসেলার, স্টকিস্ট, এমনকি আত্মীয়স্বজনদের সম্পূর্ণ আর্থিক লেনদেন, ওষুধ সরবরাহ এবং কমিশন কাঠামো খতিয়ে দেখছে ‘শিট’।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!