Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৯, ২০২৫

বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভারতীয়’ পরিচয় পত্র তৈরিতে সহা‌য়তার অভিযোগ, গ্রেফতার বাম নেতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভারতীয়’ পরিচয় পত্র তৈরিতে সহা‌য়তার অভিযোগ, গ্রেফতার বাম নেতা

সীমান্ত এলাকায় আগেও বহুবার ধরা পড়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই-দেশের ভোটার-আধার কার্ড, ভুয়ো কার্ড সমেত ধরা পড়েছেন বহু ব্যক্তি। ধরা পড়েছে দালাল চক্রের সদস্যরাও। কিন্তু এবারের ঘটনা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। পুলিশের জালে এবার ধরা পড়ল এক রাজনৈতিক নেতা। তাও আবার বাম শিবিরের পরিচিত মুখ। অভিযোগ, স্কুলের চাকরি সামলেও, বছর বছর ধরে চলে আসছিল ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির চক্র। আর তাতে সঞ্চালক হিসেবে উঠে এসেছে সিপিএম নেতার নাম।

ভারতের নাগরিকত্বের ছাপ এঁকে দেওয়া হচ্ছিল বিদেশিদের কাগজে। সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের হাতে ‘ভারতীয়’ পরিচয় তুলে দিচ্ছিলেন যিনি, তিনি পেশায় স্কুলের কেরানি, পাশাপাশি পরিচিত মুখ সিপিএমের রাজনৈতিক মহলেও। এক রাতের তল্লাশিতে উঠে এল ভুয়ো নথির আস্ত গুদাম। গ্রেফতার হলেন স্বপন সাধু। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার সিন্দ্রানী তাঁর বাড়ি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড-সহ একাধিক নথি তৈরি করতেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গেও সরাসরি যোগ রয়েছে স্বপনের।

সূত্রের খবর, গত বুধবার পাথুরিয়া এলাকা থেকে নিশিকান্ত সরকার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বাগদা থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড। শুরু হয় জেরা। জেরাতেই উঠে আসে স্বপন সাধুর নাম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ হানা দেয় সিন্দ্রানীতে স্বপনের বাড়িতে। শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। একে একে উদ্ধার হয় বিডিও অফিসের নকল সিল, একাধিক জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র, বিভিন্ন স্কুলের সনদের প্যাড, সরকারি দফতরের রবার স্ট্যাম্প, এবং বহু ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড। পুলিশের দাবি, এগুলি ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাংলাদেশিদের ‘ভারতীয়’ নাগরিক বানানো হচ্ছিল। তার পর সেই পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাঁরা ছড়িয়ে পড়ছিলেন দেশের নানা প্রান্তে।

ধৃত স্বপন সাধু পাথুরিয়া চন্দ্রকান্ত বিদ্যাপীঠের কেরানি হিসেবে কর্মরত। স্কুলের ভিতর থেকেই চলত এই অসাধু কারবার, এমনটাই অনুমান তদন্তকারীদের। অভিযোগ, কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকাও অনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। নিয়োগে অনিয়ম এবং টাকা নিয়ে পদ পাইয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে স্বপনের বিরুদ্ধে। এ এর পেছনে আরো বডড়ো কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে চলছে জেরা। তদন্তকারীদের অনুমান, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক বানিয়ে দেওয়ার কাজ চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। সেই চক্রে যুক্ত থাকতে পারেন আরও অনেকেই। এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যা উদ্ধার হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। আরো তথ্য ও নথি ঘাঁটলে বড়োসড়ো চক্র সামনে আসতে পারে।’ ঘটনার খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা। বাগদা পশ্চিম ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নিউটন বালা বলেন, ‘সিপিএম নেতারা মুখে সমাজতন্ত্রের বুলি আওড়ান, অথচ বাস্তবে ভুয়ো নাগরিক বানানোর মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে রয়েছেন। এটা লজ্জার।’ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট অবশ্য এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। দলের তরফে এ নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইর’ নিয়ে ব্যপক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশন আধার বা ভোটার কার্ডকে পরিচয়ের একমাত্র প্রমাণ হিসেবে মান্যতা দিতে নারাজ। বিরোধীদের দাবি, ভুয়ো পরচয়পত্র বানিয়ে কয়েকলক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন, সমস্তরকম সুবিধা ভোগ করছেন, এমনকি ভোট দিচ্ছেন। পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্য সে দাবিকেই আরো এক বার জোরালো করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকার যাই বলুক, বাস্তবতা হলো জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে সহজেই তৈরি করে ফেলা যাচ্ছে ‘আসল’ পরিচয়পত্র। আর এক বার সেটি হাতে পেয়ে গেলে, আইন-শৃঙ্খলার গেরো ডিঙিয়ে যেকোনো সরকারি সুবিধা হাতের মুঠোয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!