Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১২, ২০২৬

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথমবার, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতগামী তেলবাহী জাহাজ পৌঁছোল মুম্বই বন্দরে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথমবার, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতগামী তেলবাহী জাহাজ পৌঁছোল মুম্বই বন্দরে

আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে প্রথম কাঁচা তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। লিবারিয়ার পতাকাবাহী শেনলং সুয়েজম্যাক্স নামের জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ১ মার্চ যাত্রা শুরু করে। সমুদ্র বাণিজ্যের উপর নজরদারি চালানো প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইনটেলিজেন্স এবং ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ৮ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর উপরে অবস্থান করছিল। তার পরেই জাহাজের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে জাহাজটি নিজের অবস্থান লুকিয়ে রেখেছিল। ৯ মার্চ পুনরায় জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ১টা নাগাদ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। সন্ধ্যা ৬টায় এটি জওহর দ্বীপে নোঙর করে। মুম্বাই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, ‘জাহাজে ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টনের বেশি অপরিশোধিত তেল রয়েছে। জাহাজ থেকে তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই তেল মুম্বাইয়ের পূর্বাঞ্চলের মাহুল শোধনাগারে পাঠানো হবে।’

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জাহাজে ২৯ জন নাবিক ও কর্মী ছিলেন, যাদের মধ্যে ভারতীয় ছাড়াও পাকিস্তান এবং ফিলিপিন্সের নাগরিক রয়েছেন। জাহাজের ক্যাপ্টেন হলেন সুকশান্ত সিং সান্ধু। মুম্বাইয়ে পৌঁছানোর পর খালাস প্রক্রিয়া প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় নেবে বলে জানানো হয়েছে।

জাহাজটি শেনলং শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন এবং এথেন্সভিত্তিক সংস্থা ডায়নাকম ট্যাঙ্কার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত। তবে শিপিং মন্ত্রক এখনও গোটা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।  শেনলং-এর নিরাপদ আগমন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি আশার বার্তা হলেও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটজনক। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই জলপথে এখনও ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে আছে। এর মধ্যে সাতটি জাহাজ — দেশ মহিমা, দেশ অভিমান, স্বর্ণ কমল, বিশ্বা প্রেরণা, জাগ বিরাট, জাগ লোকেশ এবং অসীম সাম্প্রতিক সময়ে আরব সাগরে পৌঁছেছে, আরেকটি জাহাজ জাগ অ্যাঙ্গোলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। বিপজ্জনক এই এলাকায় অনেক জাহাজ চিনা পরিচয় গ্রহণ করেছে, যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারে।

উল্লেখ্য, কূটনৈতিক অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও, বুধবার হরমুজ প্রণালীতে ভারতের উদ্দেশ্যে আশা একটি থাই পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৭৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘ময়ূরী নারি’ জাহাজটি ব্যাঙ্কক ভিত্তিক সংস্থা ‘প্রিসিয়াস শিপিং’-এর মালিকানাধীন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর থেকে কন্ডলা (গুজরাট) যাওয়ার পথে অজানা আক্রমণের শিকার হয় সেটি।

জাহাজে ভয়াবহ আগুন লেগে গেলে, নাবিক ও অন্যান্য কর্মীদের উদ্ধার করে ওমানের নৌসেনা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘর্ষে বাণিজ্যিক জাহাজকেও সামরিক আক্রমণের লক্ষ্য করা হচ্ছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!