- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৬, ২০২৩
ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় প্রস্তুর রাজ্য প্রশাসন , শনিবারই বঙ্গোপসাগরে তৈরী হবে ঘূর্ণাবর্ত
মে মাস হলেই রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি ২০০৯ সাল থেকে দেখছে বাংলা। শনিবারই বঙ্গোপসাগরে তৈরী হবে ঘূর্ণাবর্ত। আবারও সেই মে মাসেই বঙ্গোপসাগরের তৈরি হচ্ছে নতুন ঘূর্ণিঝড় মোকা৷ দুর্যোগের আসছে ধরে নিয়ে রাজ্যের সেচ দফতর ১০ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত জলসম্পদ ভবনে কন্ট্রোল রুম খুলছে। কলকাতা পুরসভা নিকাশি, বিদ্যুৎ, জঞ্জাল অপসারণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর প্রস্তুতি নিয়েছে। সমস্ত পাম্পিং স্টেশনগুলোর পাম্প যাতে সচল থাকে সেই লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভা প্রস্তুতি নিয়েছে। তৈরি হচ্ছে নবান্নও ৷ তবে ঘূর্ণিঝড় মোকা কবে, কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানায়নি আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷ কতটা তীব্রতা নিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তাও এখনও নিশ্চিত নয়৷ আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় তৈরী হলে তার অভিমুখ ও তীব্রতা সম্পর্কে বলা যাবে।
তবে অতীতে আমফান বা ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলি এবং কলকাতা যে অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছে তার থেকে শিক্ষা নিয়েই আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রাজ্য প্রশাসন। তাই এবার আগেভাগেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সতর্ক করেছে নবান্ন। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা, অভিমুখ নিয়ে মৌসম ভবন এখনও পর্যন্ত কিছু না বলতে পারলেও সব দিক দিয়েই এবার প্রস্তুত থাকছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ১০ মে থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে সেচ দফতর জলসম্পদ ভবনে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কন্ট্রোলরুম চালু করে দেবে। কন্ট্রোল রুম চলবে ২০ মে পর্যন্ত। খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টাই।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী দিনে কন্ট্রোল রুমের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সেচ, বিপর্যয় মোকাবিলা, ত্রাণ সহ বিভিন্ন দফতরকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে নবান্নে। এই বৈঠক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সব রকম ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রস্তুত থাকতে। বিশেষ করে নদী বাঁধগুলির ওপর সতর্ক নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেচ দফতরের আধিকারিকদের। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় গুলিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই এবার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুখ্য সচিব আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যয়ের বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকেই সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মুখ্য সচিব নির্দেশও দিয়েছিলেন। বিশেষত জল বের করার জন্য পাম্প, ঘূর্ণিঝড় হলে গাছ পরে রাস্তা বন্ধ হলে গাছ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যাতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকে সে বিষয়গুলিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল জেলা প্রশাসনকে। বৈঠকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে বিদ্যুৎ দফতরকেও। ঘূর্ণিঝড় আসতে পারে তা ধরে নিয়েই এবার আগেভাগে বিভিন্ন দফতরকে সতর্ক করেছে নবান্ন। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি জানতে আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে নবান্নের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা।
❤ Support Us






