- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৬, ২০২৬
দিল্লিতে পিএলএ-র গোপন ডেরার হদিস ! পুলিশের জালে মণিপুরের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিনেতা
মণিপুরের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র গোপন ডেরার সন্ধান মিলল রাজধানী দিল্লিতে। দক্ষিণ দিল্লিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে সংগঠনের এক ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ নেতাকে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, শুক্রবার দক্ষিণ দিল্লির একটি ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে ওই জঙ্গিনেতাকে পাকড়াও করে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধৃত ব্যক্তি মণিপুরের থৌবল জেলার সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর মামলার প্রধান অভিযুক্ত। অভিযোগ, মণিপুরে ভারতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ মেইতেই জনগোষ্ঠীর একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটির লক্ষ্য ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম মণিপুর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ধৃত জঙ্গিনেতার নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনেনি দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখার ডেপুটি কমিশনার হর্ষ ইন্দোরা জানিয়েছেন, গ্রেফতারির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দিল্লিতে কোনও নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ওই ব্যক্তি রাজধানীতে আসেননি। বরং মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও পুলিশের অভিযান এড়াতেই তিনি দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষে দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। মেইতেই ও কুকি—উভয় সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সম্ভাব্য ঘাঁটিতেও চলছে তল্লাশি।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানী দিল্লিতে নিষিদ্ধ পিএলএ-র এক শীর্ষ নেতার গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কীভাবে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন, কতদিন ধরে সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সংগঠনের অন্য কোনও সদস্যের যোগাযোগ ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
❤ Support Us







