Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫

অতিবৃষ্টিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, সিইএসসি, পুরসভার কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অতিবৃষ্টিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, সিইএসসি, পুরসভার কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় তৎপর হল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত এক মামলায় হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা **সিইএসসি-**কে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থা ও তার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও কলকাতা পুরসভাকে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানও জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

রাজ্যে মৃত ১০, শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কলকাতা। সেই সময় শহরে ৮ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর ও নরেন্দ্রপুরে ২ যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে রাজ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, দায় সিইএসসির
ঘটনার পরদিনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যুর জন্য সিইএসসি-কে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই মৃত্যুর দায় সিইএসসিকে নিতে হবে। এখনই তাদের জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নামাতে হবে।”

সিইএসসি-র পরিকাঠামোগত দুর্বলতার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে তারা শুধু ব্যবসা করছে। রাজস্থানে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ করছে, কিন্তু কলকাতায় করছে না। আমি বারবার বলে মুখ ব্যথা করে ফেলেছি।”

ক্ষতিপূরণ ও চাকরির আশ্বাস
সিইএসসি-র কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে ফোনে কথা বলার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিইএসসি যদি মৃতদের পরিবারকে চাকরি না দেয়, তাহলে রাজ্য সরকার হোমগার্ড পদে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। একইসঙ্গে তিনি সিইএসসি-র উদ্দেশে ‘অনুরোধ’ জানান, মৃতদের পরিবারকে যেন ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি: প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
বুধবার কলকাতার এক পূজার উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। কিছু নিচু এলাকা ছাড়া জল নামছে। প্রকৃতির উপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। বিহার-ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে তার জল এসে পড়ে। কিন্তু আমরা তা সামলানোর চেষ্টা করছি।”

এই পরিস্থিতিতে সিইএসসি-র ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার কলকাতা হাই কোর্ট সরাসরি রিপোর্ট তলব করল। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইন মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!