Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৬, ২০২৬

তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে মৃত্যু বেড়ে ১৫; দু’দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের খোঁজ । গ্রেফতার কালীচরণ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে মৃত্যু বেড়ে ১৫; দু’দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের খোঁজ । গ্রেফতার কালীচরণ

তারাতলার বি-২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের গোডাউনের ছাদ ধসের ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রায় দু’দিন কেটে গেলেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের খোঁজে জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান। লোহার বিশাল বিম গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে, ভারী কংক্রিটের চাঁই ও স্ল্যাব সরিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না তা জানতে ব্যবহার করা হচ্ছে থার্মাল রেডারও।

বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও একই দাবি করেছেন।

এদিকে শুক্রবার সকালে আরও দু’জন আহত শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে মন্নু কুমার (১৯) এবং গণেশ কালিন্দী (৪৫)-র।

বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা মন্নু কুমারকে বুধবার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর ভাই ঘি কুমার (১৭)। তাঁদের বাবা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দু’টি দেহ উদ্ধার করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮ জন।

এখন পর্যন্ত মৃতদের তালিকা

  • কৃষ্ণ চৌধুরী (৩০)
  • রোহিত চৌধুরী (৪০)
  • রাহুল চৌধুরী (১৭)
  • চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০)
  • পাপ্পু রজক (৪০)
  • আসগর হোসেন (৫৫)
  • সাহিল সর্দার (১৯)
  • ঘি কুমার (১৭)
  • হাসান ইমাম (৪৪)
  • গণেশ কালিন্দী (৪৫)
  • নবীন সিং (৪৪)
  • মন্নু কুমার (১৯)
  • স্বপন মণ্ডল (৫৩)
  • অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি

উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। রেলের গ্যাস কাটার ব্যবহার করে একের পর এক লোহার বিম সরানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের আশা, ধ্বংসস্তূপের নীচে যদি কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকেন, তবে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ এবং শোকের ছায়া।

তারাতলা নির্মীয়মান গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় বড়ো পদক্ষেপ নিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কালী’-কে গ্রেফতার করেছে সিট। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে প্রথমে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও প্রকাশ্যে আনেন। তিনি দাবি করেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। শহরের প্রায় সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদনই হত ওর কথায়।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “কালীকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে সিট এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, তারাতলা বিপর্যয়ের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সূত্রের খবর, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে যোগ দেন। পরে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (ডব্লিউবিপিএস) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দিলেও প্রশিক্ষণ চলাকালীন ব্যক্তিগত কারণে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর পুনরায় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ফিরে আসেন।
২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভায় কাজ শুরু করেন কালীচরণ। সেই সময় মেয়র পারিষদ ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং কালীচরণ ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী। পরে ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হওয়ার পর তাঁকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) হিসেবে নিয়োগ করা হয় বলে সূত্রের দাবি।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!