- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুন ২৬, ২০২৬
হরমুজে ফের অস্থিরতা! পণ্যবাহী জাহাজে হামলা, স্থগিত রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্ধার অভিযান। লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় নিহত ৩
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির আবহ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। বরং পরিস্থিতি ফের অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজের উপর রহস্যজনক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার জেরে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) হরমুজে চলমান উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণে ইজরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শান্তি-আলোচনার আবহেই দুই ঘটনাকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-র উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওমানের দাহিট বন্দরের প্রায় সাড়ে ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা অবস্থায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে আকাশপথ থেকে ভারী কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। হামলায় জাহাজটির কন্ট্রোল রুম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো নাবিকের প্রাণহানির খবর মেলেনি। হামলার দায় এ পর্যন্ত কোনো সংগঠন বা রাষ্ট্র স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সংবাদসংস্থা রয়টার্স মার্কিন প্রশাসনের দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ঘটনার পিছনে ইরানের ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও তেহরানের তরফে এ অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনও বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই সরু জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য পণ্য এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই জলপথে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হামলার পরই রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালীতে চলমান উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছে। সংস্থার এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার তালিকায় থাকা জাহাজ এবং ওই এলাকায় কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে পাঠানো হবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তাদের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্প্রতি ইরান- আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্যের ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু নতুন এই হামলা সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তেহরান হয়তো স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে— আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হলেও হরমুজের উপর নিজেদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে কোনও আপস করবে না। এর আগে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ মন্তব্য করেছিলেন, ‘হরমুজ আর কোনো দিন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরবে না।’ তাঁর সেই মন্তব্যের পরপরই জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, এটি কি শুধুই নিরাপত্তা অভিযান, না কি ইরানের কর্তৃত্ব অস্বীকারের ‘মূল্য’ দিতে হল সংশ্লিষ্ট জাহাজটিকে?
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার অন্য প্রান্তেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। লেবাননের নাবাতিয়েহ প্রদেশের উপকণ্ঠে চালানো সেই হামলায় অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। ওয়াশিংটনে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এগোলেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান থামেনি। বিশেষ করে বিতর্কিত ও দখলকৃত এলাকাগুলিতে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের উপর হামলার অভিযোগও উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, মার্চ মাসে সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
❤ Support Us






