- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৬, ২০২৬
রামমন্দিরে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার মন্দিরের ৮ কর্মী, তদন্তের মধ্যেই ইস্তফা শীর্ষ দুই পদাধিকারীর
অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ঘিরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে চাঞ্চল্য। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন একের পর এক গ্রেফতারি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ট্রাস্টের শীর্ষস্তরে শুরু হয়েছে ইস্তফার পর্ব। গোটা ঘটনায় এখন প্রশাসনিক চাপানউতোরের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে।
ইতিমধ্যেই মন্দিরের আর্থিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৮ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনুদান বাক্সের চাবির দায়িত্বে থাকা টিন্নু যাদবও। সকল অভিযুক্তকেই অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এঁরা প্রত্যেকেই মন্দিরের অনুদান গণনা ও আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। রামমন্দির উদ্বোধনের পর থেকে দেশ-বিদেশের ভক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান জমা পড়েছে। তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মন্দিরে নগদ প্রণামীর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
পাশাপাশি জমা পড়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। অভিযোগ উঠেছে, এই সম্পদের একটি অংশের হিসাব মিলছে না। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, মন্দিরের দানসামগ্রীর মধ্যে থাকা কিছু রুপোর তৈরি সামগ্রীও নিখোঁজ হয়েছে। বিশেষ করে দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ‘ভূষূণ্ডির কাক’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনায় মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি, কর্মীদের ভেরিফিকেশন এবং সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই একাধিক ফাঁকফোকর ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, টিন্নু যাদব—যিনি রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক ছিলেন—অনুদান বাক্সের চাবির দায়িত্বে ছিলেন। অনুদান গোনার কাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। যদিও টিন্নু যাদব নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রমাশংকর মিশ্র ও তাঁর ছেলে অনুকল্প মিশ্র, যাঁরা অনুদান গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। রমাশংকরের জামাই লবকুশ মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চুরি করা অর্থ ভাগাভাগির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়াও মন্দিরের কর্মী অবিনাশ শুক্লার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। টাকা গোনার কাজে যুক্ত মণীশ যাদবকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, জাল রসিদ তৈরির অভিযোগে করুণেশ পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, অনিয়মের দায় কি শুধুই নিম্নস্তরের কর্মীদের, নাকি উচ্চপদস্থরাও এর আওতায় আসবেন? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সনাতন মূল্যবোধের সঙ্গে প্রতারণা বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে তদন্ত এখনও চলমান। অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত ও তদন্তের পরবর্তী ধাপেই স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, তদন্তের মধ্যেই বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে ট্রাস্টে। নৈতিক দায় স্বীকার করে ইস্তফা দিয়েছেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অনুদান ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত মেলার পরই এ পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
❤ Support Us






