- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫
জয়েন্টে রাজ্যে প্রথম বাংলা মাধ্যমের ছাত্রী কাটোয়ার দেবদত্তা
মেধা, শ্রম, প্রতিভা আর অধ্যবসায়ের সমানুপাত সম্মিলনে মিলল সাফল্য। কাটোয়ার বাংলা মাধ্যম স্কুলের মেয়ে দেবদত্তা মাজি এবারের জয়েন্ট এন্ট্রাস মেইন পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হয়েছে। শহরের দেবীদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়ের এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দেবদত্তা ৯৯-৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রথম ও গোটা দেশের নিরিখে পঞ্চদশ স্থান অধিকার করেছে। দেবদত্তা ২০২৩ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৯৭ (৯৯-৫৭ শতাংশ) পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়। কাটোয়া শহরের বিদ্যাসাগর পল্লীতে দেবদত্তার বাড়ি গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আসেন কাটোয়ার পুরপ্রধান সমীর সাহা। বলেন, ‘দেবদত্তা রাজ্যের অহঙ্কার। কাটোয়ার অলঙ্কার।’ দেবদত্তা এর আগে আন্তর্জাতিক ম্যাথ অলিম্পিয়াড পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এই সাফল্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দেবদত্তা জানাল, ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা যেদিন শেষ হয়, তার পরদিন থেকেই পড়াশোনা শুরু করে দিই। উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাস পড়ার পাশাপাশি জয়েন্টের জন্য অনলাইনে কোচিং নিয়েছি। দিনে গড়ে ৯ ঘন্টা করে পড়েছি। আমি মনে করি লেখাপড়ার প্রতি নিষ্ঠা থাকলে ভাল ফল করা যায়।’ জয়েন্টের এই ফলে দেবদত্তা সহজেই দেশের যেকোনও উচ্চ মানের এনআইটি কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাবে। তবে তার পাখির চোখ আইআইটি। সেই লক্ষ্য পূরণেই দিনরাত এক করে খাটছে দেবদত্তা। সেইসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ভাল ফল করার জন্যও দেবদত্তার প্রস্তুতি তুঙ্গে। ‘উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতির মাঝেই জয়েন্টের এই সাফল্য প্রমাণ করছে পড়াশোনার প্রতি দেবদত্তার নিষ্ঠা।’ মত দেবদত্তার স্কুল ডিডিসি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। উচ্চমাধ্যমিকেও দেবদত্তার সর্বোচ্চ সাফল্য সম্পর্কে আশাবাদী স্কুলের শিক্ষিকারা। দেবদত্তার বাবা জয়ন্ত কুমার মাজি কলেজের শিক্ষক। মা শেলি দাঁ দেবদত্তার স্কুলেরই শিক্ষিকা। মেয়ের সাফল্যে খুশি শেলিদেবী জানালেন, ‘ছোট থেকেই ওকে কোনওদিন পড়তে বসতে বলতে হত না। উচ্চমাধ্যমিক ও জয়েন্ট দুটো বড় পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে হাসিমুখে নিয়েছে দেবদত্তা।’ দেবদত্তার দর্শন, সাফল্য শেষ কথা নয়, সাফল্যকে ধরে রাখাই হল জীবনের মূলমন্ত্র।
❤ Support Us






