Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

অস্ট্রেলিয়া সফরে রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ‘গভীর মৈত্রী’র বার্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া সফরে রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ‘গভীর মৈত্রী’র বার্তা

প্রথমবারের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে, বৃহস্পতিবার, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গে প্রতিনিধিস্তরের বৈঠকে করছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ক্যানবেরায় ওই বৈঠক ঘিরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সফরের সূচনালগ্নে পার্লামেন্ট হাউসে রিচার্ড মার্লেস রাজনাথ সিং-কে বরণ করেন এক সরকারি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়েলকাম টু কান্ট্রি’ নামের ধোঁয়া-অনুষ্ঠান, যা অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর এক প্রতীকী রীতি। এরপর রাজনাথ সিং শ্রদ্ধা জানান অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পরে সরকারি সফরের মূল কর্মসূচিতে প্রবেশ করেন তিনি। পরপর বৈঠক করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ২ দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে বিশ্বাস, অভিন্ন স্বার্থ এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল গঠনের অভিপ্রায়ের উপর নির্ভর করে।’ এরপরই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে পেনি ওয়ং লেখেন, ‘ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব দিনে দিনে আরো দৃঢ় হচ্ছে। রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভালো লাগল। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ।’

বৃহস্পতিবার, অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন রাজনাথ। আলোচনা চলে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে। বৈঠকের পরে রাজনাথ জানান, ‘ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প যে হারে বিকাশ লাভ করছে, এবং ভারত যে এখন বিশ্বে উন্নত মানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এক বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, সেটাই আমি তুলে ধরেছি। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়া যে নির্ভীক অবস্থান নিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব, এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে একটি মুক্ত, অবাধ ও সহনশীল নিরাপত্তা পরিসর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।’

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘অপারেশনাল কমান্ড’ স্তরে নিয়মিত ‘কার্যনির্বাহী আলোচনার’ চুক্তি। এই চুক্তিকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন রিচার্ড মার্লেস। তিনি বলেন, ‘২ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে যে গভীর আস্থা ও কৌশলগত সামঞ্জস্য গড়ে উঠেছে, তা এবার বাস্তব স্তরে রূপ নিচ্ছে। আমরা এখন এক গভীর কার্যকরী অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে চলেছি। এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়।’

উল্লেখ্য, এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই, ১২ বছর পরে এই প্রথমবার কোনো ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। একে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্লেস নিজেও বলেন, ‘এক দশকেরও বেশি সময় পরে কোনো ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফর আমাদের দুই দেশের সর্বাঙ্গীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেল। এখন থেকে আমরা প্রতিরক্ষা সংলাপ, সহযোগিতা এবং যৌথ ও বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়ার জটিলতা ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ গত এক দশকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে দুই দেশের মধ্যে মাত্র ১১টি প্রতিরক্ষা সংযোগ বা যৌথ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩-এ। ২ দেশের মধ্যে ‘বিমান থেকে বিমানে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত বাস্তবায়ন ব্যবস্থা’ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম প্রতিরক্ষা বাণিজ্য মিশন পাঠিয়েছে ভারতে, যার কেন্দ্রে ছিল উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক ক্ষেত্র—বিশেষ করে সী-ফাইভ-আই-এস-আর অর্থাৎ, ‘নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ, কম্পিউটার, সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থা, গোয়েন্দা, নজরদারি এবং অনুসন্ধান’। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া এখন নিয়মিত হচ্ছে এবং পারস্পরিক ‘কার্যক্ষমতা’ ক্রমাগত বাড়ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!