Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৭, ২০২৫

তিব্বত অরুণাচল সীমান্তে চিনা যুদ্ধবিমান ঘাঁটি, উপগ্রহ চিত্রে সতর্ক দিল্লি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তিব্বত অরুণাচল সীমান্তে চিনা যুদ্ধবিমান ঘাঁটি, উপগ্রহ চিত্রে সতর্ক দিল্লি

অরুণাচল প্রদেশের টাওয়াং থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বত প্রদেশের চিনের ঘাঁটি লুনজে বিমানঘাঁটিতে নতুন নির্মাণকাজ তুঙ্গে। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে প্রায় ৩৬টি নতুন শক্তিশালী বিমান শেল্টার তৈরি হয়েছে। এগুলো যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ আসলে প্রকৃত এলওসি-এর কাছে বেইজিংয়ের বায়ু শক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বাস্তব ছবি। লুনজে বিমানঘাঁটি এখন ভারতীয় ভুখণ্ডের কাছে চিনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই নির্মাণকাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ লুনজে বিমানঘাঁটির সরাসরি লক্ষ্য টাওয়াং এবং ভারতীয় অগ্রবর্তী পোস্টগুলো। সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তারা বলছেন, এই শক্তিশালী শেল্টারগুলো চিনের প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতা বাড়াবে এবং ভারতের বায়ুসেনার অপারেশনকে আরো কঠিন করে তুলবে।

গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর থেকে ভারত ও চিনের সীমান্তে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়। ১৫ জুন, ২০২০ তারিখে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই হতাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ১৯৬২ সালের চিন-ভারত যুদ্ধের পর সবচেয়ে মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।  সেই সংঘর্ষের পর থেকে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও প্রতিক্রিয়াশীল সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চালু আছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে সামরিক মোতায়েন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রয়েছে।

লুনজের পাশাপাশি প্যাংগং হ্রদের পূর্ব তীরে, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে চিনের নতুন সামরিক ঘাঁটি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে বিমান প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে— যেখানে রয়েছে কমান্ড সেন্টার, ব্যারাক, যানবাহন রাখার শেড, অস্ত্রাগার এবং রাডার ঘাঁটি। গোয়েন্দাদের মতে, সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, ঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র। ছাদ সরিয়ে সরাসরি ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার দিয়ে যাতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়, এমনভাবেই সেটি নির্মিত হচ্ছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা অলসোর্স অ্যানালিসিস জানিয়েছে, এই সুরক্ষিত কাঠামোগুলি সম্ভবত চিনের এইচকিউ-৯ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের জন্য। শক্তিশালি এইচকিউ-৯ প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্য ভেদ করে ধ্বংস চালাতে সক্ষম। এএসএ-এর গবেষকরা বলছেন, চিনের গার কাউন্টিতেও  তৈরি হচ্ছে একটি অনুরূপ ঘাঁটি, যা সীমান্ত থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতের সম্প্রতি আধুনিকীকৃত নিয়োমা বিমানঘাঁটির ঠিক বিপরীতে।

ভারত-তিব্বত সীমান্তে এমন আচ্ছাদিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র প্রথমবার নজরে এসেছে। তবে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলিতে বেজিং এর আগে এমন ঘাঁটি তৈরি করেছিল। টিংরি, লুনজে এবং বুরাং-এর মতো ঘাঁটিগুলি এলওসি-র একদম কাছে, ২৫–১৫০ কিলোমিটার দূরে। এই ঘাঁটিগুলি অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, উত্তরাখণ্ড এবং লাদাখে ভারতের অবস্থান পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই যে নির্মিত হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সাবেক ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধানরা বলছেন, লুনজের শক্তিশালী শেল্টার এবং প্যাংগং ঘাঁটির আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় কৌশলগত সুবিধা কমাচ্ছে। ফলে, চিনের এহেন দ্রুত সামরিক আধুনিকায়ন ভারতীয় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন প্রশ্নচিহ্ন তুলছে। অদূর ভবিষ্যতে বিস্তৃত এ অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!