Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

নাগরিকত্বের আগে ভোটার তালিকায় নাম ! জন্মদিনেই সোনিয়া গান্ধিকে নোটিস দিল্লি আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নাগরিকত্বের আগে ভোটার তালিকায় নাম ! জন্মদিনেই সোনিয়া গান্ধিকে নোটিস দিল্লি আদালতের

জন্মদিনেই দুঃসংবাদ। নাগরিকত্ব না পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছিল— এমন অভিযোগে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত নোটিস পাঠাল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধিকে। ঘটনাচক্রে মঙ্গলবারই কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রী সোনিয়ার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা— সকলে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর মাঝেই আইনি ঝটকা এসে পৌঁছল ১০ জনপথে। আদালত মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধী ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ পাঠিয়ে জানাল, তাঁদের বক্তব্যও এবার রেকর্ড করা হবে। আগামী ৬ জানুয়ারি ফের শুনানি।

বিতর্কের সূচনা চার দশক আগে। ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসের একটি নির্বাচনী তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম ছিল, এই দাবি প্রথম উত্থাপন করেন বিকাশ ত্রিপাঠী, রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের আইনজীবী ও সেন্ট্রাল দিল্লি কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি। তাঁর কথায়, তালিকায় সোনিয়ার নাম থাকলেও তিনি তখনও ভারতের নাগরিক ছিলেন না। নাগরিকত্ব মেলে ১৯৮৩ সালের ৩০ এপ্রিল। ত্রিপাঠীর দাবি আরো বিস্তৃত। তাঁর মতে, ১৯৮২ সালে এই বিতর্কে নাম বাদ গেলেও পরের বছর আবার তালিকায় ফেরানো হয়, তাও নাকি জাল নথি ব্যবহার করে। এর পেছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, বা কোনো সরকারি সংস্থাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেন তিনি।

কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। কয়েক মাস আগে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স-এ একটি বুথ তালিকার ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে সোনিয়ার নাম দেখা যায়। মালব্য দাবি করেন, ১৯৮০ সালে প্রথমবার তালিকায় যুক্ত হন সোনিয়া, তখনো তিনি ছিলেন ইতালির নাগরিক। পরে সমালোচনার মুখে নাম বাদ দেওয়া হলেও ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অভিযোগের সঙ্গে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন— রাজীব গান্ধিকে বিয়ের পনেরো বছর পরে কেন সোনিয়া নাগরিকত্ব নিলেন ? বিজেপির মতে, এতে কোনো না কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। কংগ্রেস অবশ্য গোড়া থেকেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে। তাদের বক্তব্য, মালব্য যে নথি দেখিয়েছেন, তা ভুল এবং বিকৃত। ফলে সমগ্র বিতর্কটাই একটি রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া কিছু নয়।

এদিকে ত্রিপাঠী এই অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও নথি জাল করার মামলা শুরু করার অনুমতি চান। কিন্তু আদালত সে আবেদন খারিজ করে সাফ জানিয়ে দেয়— নির্বাচনী তালিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। আদালত আরও বলে, ত্রিপাঠীর দেওয়া নথিপত্র ছিল একটি ফটোকপিরও ফটোকপি, যা যাচাই করা হয়নি। তাই এমন অসত্যাপিত নথির ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত এটাকে আইনগত প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলেও মন্তব্য করে। এই সিদ্ধান্তের পরই ত্রিপাঠী রিভিশন আবেদন করেন রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে নোটিস পাঠান সোনিয়া গান্ধী ও দিল্লি পুলিশকে। আদালত জানতে চায়, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তাঁর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা কী। পাশাপাশি পুলিশের অবস্থানও জানতে চাওয়া হয়।

বিতর্কের সময়কালও লক্ষ্যণীয়। বছরজুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধি— বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে পাল্টা আক্রমণে বিজেপি সোনিয়ার নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে ধরতে শুরু করে। আদালতের নোটিসে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নোটিস নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়েই দেবে। অন্যদিকে কংগ্রেস শিবিরে মঙ্গলবার ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সোনিয়া গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বহু সদস্য শুভেচ্ছা জানান। এমন দিনে আদালতের নোটিস এসে পৌঁছানো নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ও আইনি ইঙ্গিত বহন করে। সোনিয়া এই অভিযোগে কী প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা এখনো জানা যায়নি, তবে আগামী শুনানিতে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!