- দে । শ
- মে ৩, ২০২৩
গ্রন্থাগারের প্রথাগত ধারণায় বদল ! বিভাজনের বেড়া ভেঙে দিল্লির গ্রন্থাগারে সমন্বয় ও সহাবস্থানের নতুন দৃষ্টান্ত
গ্রন্থাগারের প্রথাগত সংজ্ঞায় বদল আনছে দিল্লির সাধারণ গ্রন্থাগার। টিসিএলপি প্রকল্পের অধীনে তৈরি পাঠাগার ইতিমধ্যে গুরুগ্রামে সিকান্দারপুর ও খিড়কিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রাজধানীর দক্ষিণাংশের গ্রন্থাগারের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অভিনব ধাঁচের এ গ্রন্থসম্ভার।
শিশু ও কিশোরদের বিদ্যাচর্চায় উৎসাহদানের জন্য রচিত দ্য কমিউনিটি লাইব্রেরী প্রকল্পের উদ্দেশ্যই হল বিভাজনের বেড়াজালকে ছিন্ন করা। আম্বেদকরের ভাবনায় অনুপ্রাণিত এ গ্রন্থাগারের চায়, সমাজের অবহেলিত প্রান্তীয় অংশের মানুষকে সারস্বতচর্চার আঙিনায় নিয়ে আসতে। সে লক্ষ্যপূরণে একের পর এক গ্রন্থাগার গড়ে উঠছে। মূল নীতি হল, ভালোবাসার সঙ্গে সকলকে একত্রিত করা, যার প্রতিফলন দেখা গেছে পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। গ্রন্থাগারের প্রবেশ পথ সম্মুখভাগে না রেখে পিছনের দিকে করা হয়েছে। সামনের দিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য র্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে হুইল চেয়ারে করে মূল কক্ষে তাঁরা প্রবেশ করতে পারে।
বিদ্যাচর্চাই ও সারস্বতসাধনাকে উৎসাহিত করাই যেহেতু মূল উদ্দেশ্য তাই সদস্যপদ গ্রহণের জন্য কোনো আঁধার কার্ড বা শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সবথেকে বড়ো কথা গ্রন্থাগারের বিশেষত্বই হল আলোচনা করাকে উৎসাহদান যা অন্য কোনো লাইব্রেরীতে সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না। লাইব্রেরীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখক ও পাঠকের মধ্যে যাতে ভাবনার বিনিময় ঘটে সে ব্যাপারে তাঁরা বিশেষভাবে সচেষ্ট। এখানে বই যারা পড়তে আসেন তাঁদের সৃজনশীলতার চিন্তারবিকাশের জন্য সবসময় উৎসাহ দেন তাঁরা। । তাই পাঠাগারের পরিবেশ প্রথাগত অসীম নীরবতার পরিবর্তে, সদামুখর হয়ে ওঠে। সমৃদ্ধ হয় চিন্তা ও মননের আলোচনায়। সমৃদ্ধ তরুণ ও কিশোর পাঠকদের বিদ্যাচর্চার প্রতি আকৃষ্ট করতে বিলম্বে বই ফেরতে জরিমানার কোনো ব্যবস্থা করেননি। বইয়ের কোনো ক্ষতি হলেও তাঁরাই যেন তা মেরামতের ব্যবস্থা করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়।
পাঠাগার যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়েছে তা তার সদস্য সংখার বৃদ্ধি থেকে স্পষ্ট। গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী জানিয়েছেন, প্রথম যখন গ্রন্থাগারের পথ চলা শুরু হয় তখন সদস্য সংখ্যা ছিল ৬০ । কিন্তু এখন তা ২০০। মূলত শিশু কিশোররা এর সদস্য হলেও বড়োরাও আসেন এখানে। সাধারণত রবিবারেই তাঁদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁদের বৌদ্ধিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাই প্রাপ্ত বয়স্কদের বইও শেলফে স্থান পেয়েছে। যেখানে জাত-বর্ণ , লিঙ্গ পরিচয় ও শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ভিত্তিতে সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা মানুষের কথা উল্লিখিত হয়েছে। দলিত হোন কিংবা নারী অথবা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি সকলেই যাতে নিজেদের কথা নিজেরা বলতে পারেন, লিখতে পারেন তার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংস্থা। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে গড়ে তুলেছেন তাঁরা ডিজিটাল লাইব্রেরী। যার নাগাল পান সকলেই।
গ্রন্থাগার সাধারণত সোম থেকে শুক্র ১০ টা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শনি ও রবিবার ১ টা থেকে ৯ টা। ৫ টা থেকে ৯ টার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা আসেন। যেহেতু পাঠাগারে আসা ছেলে মেয়েদের অনেকেই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী, তাই প্রথাগত পড়াশোনা ছাড়াও চিত্রকলা, গান, ইংরাজী ও হিন্দির ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি অর্থ সাহায্য ব্যতিরেকে সমাজের সব অংশের মানুষকে এক ছাতার তলায় এনে তাঁদের মানসিক বিকাশের এমন প্রচেষ্টা বড়োই বিরল।
❤ Support Us







