- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছিল দিল্লির ধসে পড়া মেসবাড়ি ! পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ঘিরে মোদি-শাহকে নিশানা সিজেপির
বিকট শব্দ, ধুলোয় ঢেকেছিল চারদিক। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছাত্রদের থাকার পাঁচতলা বাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। নিহত ৬, গুরুতর জখম ১১। তদন্তে উঠে আসছে বেআইনি নির্মাণ, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা, নির্মাণকাজ চলাকালীনই পড়ুয়াদের সেখানে রাখার অভিযোগ। দিল্লির মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
রবিবার দুপুর। দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায়, পড়ুয়াদের থাকার জন্য ব্যবহৃত ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত মেস বাড়ির বড়ো অংশ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তে ধুলোর মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ। ধসে পড়ার ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রবিবার দুপুর ১টা ১৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। তার পরেই আচমকা বাড়িটির কাঠামোয় বিপদের লক্ষণ দেখা দেয়। এক সেকেন্ডের মধ্যে বাড়িটির অনেকাংশ ভেঙে পড়ে। আতঙ্কে ছুটতে শুরু করেন আশপাশের মানুষ।
বাড়ি ভেঙে পড়ার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় পৌঁছতে শুরু করে অ্যাম্বুল্যান্স। ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক আহত ও মৃতকে বার করে আনার চেষ্টা শুরু হয়। রাতভর উদ্ধারকাজ চললেও সোমবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের সবটা সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে আরও কেউ ভিতরে আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে যায়। এ পর্যন্ত এই ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত ১১ জনকে দিল্লির এইমসে চিকিৎসা করা হচ্ছে। পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। আর্থমুভার ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় সত্য নিকেতন এলাকায় বহু বাড়ি ‘পিজি’, মেস বা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ির বাইরে ‘পিজি’ বা মেস হিসেবে ব্যবহারের কোনো স্পষ্ট সাইনবোর্ড থাকে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কাঠামোগত পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে বাড়িটির দুর্বল কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থাকেই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হলেও তদন্ত এগোতেই সামনে আসছে আরও একাধিক অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ওই বাড়িটি বেশ কিছু দিন ধরেই বেহাল অবস্থায় ছিল। কয়েক মাস আগে সেটিকে ‘পিজি’ হিসেবে ভাড়া দেওয়া শুরু হয়। চলতি বছরের আগস্টে সেখানে পড়ুয়াদের থাকতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অথচ তখনো বাড়ির সংস্কার ও পরিবর্তনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ।
শুধু তা-ই নয়, বাড়িটি ভেঙে পড়ার সময়ও বেসমেন্টে নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে টানা বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছিল। ওই বাড়ির বেসমেন্টেও জল ঢুকেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। জল জমে থাকা অবস্থায় সেখানে কোনও অনুমোদনহীন খনন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ চলছিল কি না, তা-ও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই কাজের জেরে বাড়িটির মূল কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বাড়িটির নির্মাণ অনুমোদন নিয়ে। দিল্লি পুরসভার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সর্বোচ্চ গ্রাউন্ড প্লাস এক তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি ছিল। অথচ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটি দাঁড়িয়েছিল গ্রাউন্ড প্লাস চার তলা। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার তুলনায় একাধিক অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দিল্লি পুরসভা ইতিমধ্যেই বাড়িটিকে নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে তৈরি কাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারীদের সামনে তাই একাধিক প্রশ্ন। অনুমোদন ছাড়া কী ভাবে অতিরিক্ত তলা তৈরি হলো? নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ চলাকালীনই বা কী ভাবে সেখানে ছাত্রদের থাকতে দেওয়া হলো? এত পুরনো ও দুর্বল কাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা না করেই কেন সেখানে এত জন পড়ুয়ার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল? পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থাই বা কোথায় ছিল?
জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে প্রায় ৩০টি ঘর ছিল। সেখানে কমবেশি ৭৫টি খাটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঘরপিছু দুই থেকে তিন জন ছাত্রকে রাখার পরিকল্পনা ছিল বলে খবর। ফলে একটি দীর্ঘদিনের পুরনো কাঠামোর মধ্যে এত সংখ্যক পড়ুয়ার থাকার ব্যবস্থা করার আগে যথাযথ কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে, সত্য নিকেতনে এই ‘পিজি’ ব্যবসা নিয়েও পুরনো অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বহু বাড়িকেই একই ভাবে ‘পিজি’ বা মেসবাড়িতে পরিণত করে ভাড়া দেওয়া হয়। অনেক বাড়ির মালিক নিজেরা অন্যত্র থাকেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে ছাত্রদের কাছে ঘর ভাড়া দেওয়া হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নিনিরাপত্তা কিংবা কাঠামোগত পরীক্ষা নিয়ে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারি থাকে না বলেও অভিযোগ।
যদিও ‘এমডিসি’-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির বিরুদ্ধে এর আগে কোনোরকম অভিযোগের রেকর্ড নেই। তবে বাড়িটির নির্মাণ, সংস্কার এবং ‘পিজি’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিক হরিরাম বনসল-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত খুন, বাড়ি মেরামতে গাফিলতি, আবাসিকদের জীবন বিপন্ন করার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে দিল্লি প্রশাসন। অনুমোদিত সীমার বাইরে তৈরি কাঠামো দ্রুত সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো আধিকারিকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার অভিঘাত শুধু ‘হোস্টেল ডেজ’-এর মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাশের একটি ‘পিজি’-র অবস্থাও বিপজ্জনক বলে প্রশাসনের নজরে এসেছে। জরাজীর্ণ ওই বাড়িটি খালি করে সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটি ভেঙে ফেলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিল্লি পুরসভা বাড়িটি খালি করার নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি তিন দিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। মালিক নিজে ব্যবস্থা না নিলে পুরসভাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে বাড়িটি ভেঙে দেবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য থাকা সমস্ত ভবনের নিয়মিত কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা বা ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ বাধ্যতামূলক করার জন্য নীতি তৈরির কাজ চলছে। দিল্লি সরকার এবং পুরসভা যৌথ ভাবে এই ব্যবস্থা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘পিজি’ অ্যাকোমোডেশন, নার্সিংহোম, স্কুল, হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন ধরনের জনসাধারণের ব্যবহৃত ভবনে প্রতি বছর কাঠামোগত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে। নিয়মিত পরীক্ষা না করালে সংশ্লিষ্ট ভবনে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। ধসে পড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা পড়ুয়াদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সত্য নিকেতনের দুর্ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন দিল্লিতে পর পর বাড়ি ধসের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্চে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কবির নগরে একটি জীর্ণ দু-তলা জিনস তৈরির কারখানা ধসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন এক জন। এপ্রিল মাসে মুস্তাফাবাদের সরু গলিতে একটি চারতলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ১১ জন। মে মাসে দক্ষিণ দিল্লির সাইদ-উল-আজাইবে একটি কো-ওয়ার্কিং স্পেস থাকা বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ধসে পাশের টিনশেড ক্যান্টিনের উপর পড়ে। ওই ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন আট জন। উপরের তলার নির্মাণ এবং কাঠামোগত ত্রুটিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। জুলাইয়ে রোহিনীতে নির্মীয়মাণ একটি বাড়ি ধসে তিন জনের মৃত্যু হয়। একই মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওয়েলকামে প্রায় ২০ বছরের পুরনো একটি চারতলা আবাসিক বাড়ি ধসে ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৮ জন। এ ধারাবাহিক দুর্ঘটনার মধ্যেই সত্য নিকেতনের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির নির্মাণ ও আবাসন ব্যবস্থার উপর।
এ পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘সিজেপি’। রবিবারই দলের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দলের সহকারী ইন-চার্জ দীপক বালিয়ান এবং জাতীয় যুগ্মসচিব বালকৃষ্ণ শুক্লের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উদ্ধারকাজেও হাত লাগান। ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিজেপির কনভেনর অভিজিৎ দীপকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল বিশাল পার্টি অফিস তৈরি করা হচ্ছে, অথচ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদে থাকার মতো পরিকাঠামোর দিকে কেন যথেষ্ট নজর নেই? দীপকের অভিযোগ, সমস্যা শুধু দিল্লির কোনো একটি মেসবাড়ি বা ‘পিজি’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু ছাত্রছাত্রী অপর্যাপ্ত এবং অসুরক্ষিত পরিকাঠামোর মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য যেমন উপযুক্ত সহায়তা ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, তেমনই দেশের রাজধানীতেও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।
স্কুল-কলেজের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ‘সিজেপি’ নেতৃত্বরা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু স্কুল ও কলেজের ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হচ্ছে না। সেগুলির নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দিল্লির সমস্ত ‘পিজি’, মেস আর পড়ুয়াদের থাকার হস্টেলে পূর্ণাঙ্গ ‘সেফটি অডিট’ করার দাবি জানিয়েছেন দীপকে। তাঁর দাবি, শুধু দুর্ঘটনার পরে তদন্ত বা ব্যবস্থা নিলে হবে না, আগেই প্রতিটি ছাত্রাবাস ও ‘পিজি’-র কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য সরকারের জবাবদিহিও দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে দীপকে প্রশ্ন করেন, ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করলেও দিল্লির শিক্ষা পরিকাঠামো এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেন কোনো বক্তব্য রাখলেন না? রাজধানীতে ছাত্রছাত্রীদের থাকার জায়গার এমন বেহাল পরিস্থিতির দিকেও সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনের গোয়া সফরে গিয়ে পানাজির কাছে চিম্বেল গ্রামে বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে মেসবাড়ি ধসে পড়ে পড়ুয়াদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর অবশ্য সে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। সে প্রসঙ্গও তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে সিজেপি। দীপকের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বড়ো বড়ো রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ পড়ুয়াদের থাকার জন্য ব্যবহৃত ভবনগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই রকম তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, বিষয়টি কোনো একটি বাড়ির নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, দেশের তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সিজেপির দাবি, রাজনৈতিক পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, হস্টেল, ‘পিজি’ এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ও মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সত্য নিকেতনের মেসবাড়ি ধস সে প্রয়োজনীয়তার কথাই ফের সামনে এনে দিয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে— দুর্ঘটনার পরে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও দুর্ঘটনার আগে নজরদারি কোথায় ছিল? প্রায় ৫০ বছরের পুরনো একটি বাড়ি কী ভাবে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে গ্রাউন্ড প্লাস চার তলা হয়ে উঠল? নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলাকালীন সেখানে পড়ুয়াদের থাকার অনুমতি মিলল কী ভাবে? বেসমেন্টে জল জমে থাকার পরেও সেখানে কাজ চলল কেন? প্রায় ৭৫ জন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা করার আগে বাড়িটির কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়েছিল কি না? আর যদি একের পর এক নিয়মভঙ্গ হয়ে থাকে, তা হলে প্রশাসনের নজরে সেগুলি এল না কেন? সত্য নিকেতনের ধ্বংসস্তূপ শুধু একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার ছবি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেআইনি নির্মাণ, পুরনো বাড়ির নিরাপত্তা, অনিয়ন্ত্রিত ‘পিজি’ ব্যবসা, ছাত্রছাত্রীদের আবাসনের ঝুঁকি এবং প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
❤ Support Us





