Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২০, ২০২৫

দীপাবলিতে চাহিদা বেড়েছে মাটির প্রদীপের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দীপাবলিতে চাহিদা বেড়েছে মাটির প্রদীপের

দীপাবলিকে সামনে রেখে ফিরেছে মাটির প্রদীপ। ফিরিয়েছে কালনা আর মঙ্গলকোটের কুমোরপাড়া। শুধু প্রদীপ? বরাত মিলেছে মাটির তৈরি ধুনুচি, ঘটেরও। এইসবের মাধ্যমে নীরবে ছড়াচ্ছে দূষণমুক্তির বার্তা। তবে সমস্যা একটাই, প্রদীপ, ঘট, ধুনুচি তৈরির জন্য ভাল মানের মাটির অভাব। তবুও বরাত সামলাতে রাত জেগেছেন মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্লাস্টিকের প্রদীপের দাপটে গত কয়েকবছর মাটির প্রদীপের ব্যবহার তলানিতে চলে গিয়েছিল। বছর দুয়েক ধরে সেই মন্দা কেটেছে। হাসি ফিরেছে কুমোরপাড়ায়।

কালনা ২নং ব্লকের সাতগাছি, মেদগাছি প্রভৃতি এলাকায় বহু মৃৎশিল্পীর বসবাস। মেদগাছি রাজবংশীপাড়ার মৃৎশিল্পী চণ্ডী পাল প্রদীপ তৈরি করতে করতেই খুশিমুখে জানালেন, ‘আমাদের গোটা এলাকার মৃৎশিল্পীরাই এবার ভাল বরাত পেয়েছেন প্রদীপের। শুধু কালনাই নয়, জিরাট, ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড়, ত্রিবেণী, শান্তিপুর প্রভৃতি এলাকা থেকে বরাত মিলেছে।’ এমনকী বড় দোকান, শপিং মলগুলি থেকেও বরাত মিলেছে। যা হিসেব মিলল, গতবার যেখানে এই এলাকার শিল্পীরা সবমিলিয়ে ৭০ হাজার মাটির প্রদীপের বরাত পেয়েছিলেন। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লাখের উপর। ভাল মাটি আনার খরচ, শ্রমিকদের মজুরি মিটিয়েও লাভ মিলবে ভালই বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা। আকর্ষণ বাড়াতে প্রদীপ পোড়ানোর পর রং লাগানো হচ্ছে। পূর্বস্থলীর মৃৎশিল্পী মোহন পালের আফশোস, ‘চাহিদা খুবই ভাল। কিন্তু টানা দুর্যোগের কারণে চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারব কিনা বুঝে উঠতে পারছি না।’ দুর্যোগের কারণে বহু জায়গায় জল জমে থাকায় ভাল মাটি পেতে সমস্যা হচ্ছে। মাটির দরও চড়া। প্রদীপ শুকোতে দেরি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে বছর ২৫ আগে মাটির প্রদীপের রাজত্বের পতন শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাজার দখল করে প্লাস্টিকের প্রদীপ, টুনি বাল্ব, রঙিন মোমবাতি। কুমোরপাড়ায় হতাশা বাড়ে। তবে এবার সেই হতাশায় দাঁড়ি পড়েছে। সাধারণ প্রদীপ থেকে শুরু করে নকশাকাটা প্রদীপ ভালই বিক্রি হয়েছে। দর ১০ টাকা থেকে ৭০ টাকা। আবার রং-করা ও নকশা করা প্রদীপের দাম ৩০ টাকা থেকে ৭৫ টাকা। এসবের ফলে টুনি বাল্ব, রঙিন মোমবাতি শিকেয় তুলে পরিবেশবান্ধব মাটির প্রদীপের আলোয় এবার ঝলমলে দীপাবলির উৎসব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!