Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

ইন্ডিগোর পাঁচ শতাংশ উড়ান কমানোর নির্দেশ কেন্দ্রের, বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইন্ডিগোর পাঁচ শতাংশ উড়ান কমানোর নির্দেশ কেন্দ্রের, বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত। যাত্রীদের ভোগান্তি এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাজার হাজার যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। সোমবার রাজ্যসভায়  কেন্দ্রীয় বিমান প্রতিমন্ত্রী রামমোহন নাইডু স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ইন্ডিগোর এ বিভ্রাটের মূল কারণ সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ক্রু রোস্টারিংয়ে সমস্যা। যান্ত্রিক ত্রুটি বা আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, ইন্ডিগোর নিজস্ব ‘ইন্টারনাল ক্রাইসিস’ই এই বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপে নামেছে। ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোকে দৈনিক ফ্লাইটের ৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় ১১০টি ফ্লাইট বাতিল হবে এবং কয়েকদিন পর আরও ৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র ইন্ডিগোর এই ফ্লাইটগুলো অন্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করার কথাও ভাবছে, যাতে দেশের বিমান পরিষেবায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিমান প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিটি বিমান সংস্থার জন্য এটি উদাহরণ হবে এবং পাইলট, ক্রু ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নেটমাধ্যমে ভিড়ে আটকে থাকা যাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেরই ছিল জরুরি চিকিৎসা বা পরিবারিক প্রয়োজনে যাত্রা। ইতিমধ্যেই ইন্ডিগো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ৪,৫০০ মালপত্র ফেরত দিয়েছে এবং টিকিটের অর্থও ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে ৯.৫ লাখের বেশি বুকিংয়ের কারণে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে, যা যাত্রীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর ফ্লাইট কমিয়ে অন্য সংস্থার কাছে পরিচালনার ভার দেওয়ার কথাও ভাবছে। বর্তমানের ২,২০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ১১০টি বাতিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকেও কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে।

নতুন আইনে পাইলট ও কেবিন ক্রুর ডিউটি–আওয়ার কমানো এবং বিশ্রাম বাড়ানোকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ বিধি মানার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য ইন্ডিগোকে দায়ী করা হয়েছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটসের সভাপতি সিএস রণধাওয়ার অভিযোগ, ইন্ডিগো সম্ভবত এই সমস্যা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করেছে। উদ্দেশ্য, ডিউটি টাইম বাড়িয়ে পাইলটদের আরও কাজ করানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘নিয়ম আসে সিস্টেমের উন্নতির জন্য, মানুষকে হয়রানির জন্য নয়।’ কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর জন্য উদাহরণ স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। বিমানে আটকে থাকা যাত্রীদের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি কমাতে কেন্দ্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইন্ডিগোও ইতিমধ্যেই প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!