- দে । শ
- জুন ২১, ২০২৫
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদবিলি রাজ্য জুড়ে
দিঘার জগন্নাথদেবের প্রসাদ বিলি শুরু হয়ে গেল কাটোয়া-কালনা ২ মহকুমা-সহ গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে। বিভিন্ন এলাকার মিষ্টি বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্তাদের বৈঠকের ভিত্তিতে গজা-পেঁড়া সংগ্রহ করে ব্লক অফিসগুলিতে প্যাকিং করে রেশন ডিলারদের মাধ্যমে বিলি করা হচ্ছে প্রসাদ। রথযাত্রার আগে জগন্নাথের প্রসাদ মেলায় আহ্লাদে আটখানা ২ মহকুমার বাসিন্দারা। জানা গেল, প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেটে থাকছে ২০ গ্রাম ওজনের একটি পেঁড়া, ৬০ গ্রাম ওজনের একটি গজা ও তার সঙ্গে জগন্নাথদেবের একটি ছবি।
পেঁড়া তৈরির মূল উপকরণ খোয়া ক্ষীর এসেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। সেই ক্ষীর নির্দিষ্ট মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁরা ক্ষীরের সঙ্গে দুধ, চিনি, জায়ফল, এলাচ মিশিয়ে পেঁড়া এবং ঘি, ময়দা দিয়ে গজা তৈরি করেছেন। একটি পেঁড়ার জন্য ১৭ টাকা ও একটি গজার জন্য ১৯ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রসাদের আকৃতি, ওজন, রঙ সবই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়েছে। পেঁড়া-গজা তৈরির বরাত পাওয়া কালনার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী রণজিৎ মোদক বলছিলেন, ‘কোন দিন কত পেঁড়া-গজা তৈরি করতে হবে, তা বলে দেওয়া হয়েছে। সেইমতো তৈরি করছি।’ কাটোয়া ও কালনা ২ মহকুমা মিলিয়ে পরিবারের সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। গোটা জেলায় সেই সংখ্যাটা প্রায় ৬ লাখ। বিলি করার ক্ষেত্রে ই-পস যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কত প্যাকেট কোন এলাকায় বিলি হচ্ছে তার হিসেব রাখা হচ্ছে বলে জানালেন কালনা মহকুমা রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুশীল ঘোষ। দোকান থেকে প্রস্তুত হওয়ার পর পেঁড়া ও গজা সংশ্লিষ্ট ব্লক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার সেখানে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে প্রসাদ প্যাকেটজাত করে রেশন ডিলারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ডিলাররা নিজের নিজের এলাকার পরিবারগুলির মধ্যে প্রসাদের প্যাকেট বিলি করছেন। জেলার ২৩টি ব্লক ও ৬ পুরসভা মিলিয়ে রোজ প্রায় ৭০ হাজার করে প্যাকেট টানা ১০ দিন বিলি করা হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও বা জলমগ্ন পরিস্থিতি হলে নৌকায় করে প্রসাদ বিলি করা হবে বলে জানালেন কালনার মহকুমাশাসক শুভম আগরওয়াল। তবে প্রসাদ নিতে যারা অনিচ্ছুক, তাদের জোর করা হবে না বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।
রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বললেন, ‘অনেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যেতে পারেননি। তারা রথের আগেই বাড়ি বসে জগন্নাথদেবের প্রসাদ পেয়ে যাচ্ছেন। এটা খুবই আনন্দের ব্যপার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এহেন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।’
❤ Support Us






