- দে । শ
- মে ২৯, ২০২৩
সিনেমা তৈরির তথ্যের ভিত্তি কী, পুলিশের এ প্রশ্ন এড়াতেই কি তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সামনে আনছেন “দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল” এর পরিচালক ?
“দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল”-এর পরিচালক সনোজ মিশ্রর আশঙ্কা, তিনি কলকাতায় গেলেই তাঁকে হত্যা করা হবে। তাঁর তৈরী এই ফিল্মটিতে পশ্চিমবঙ্গের সম্মানহানি করার চেষ্টা তিনি করেছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পরে কলকাতা পুলিশ তাঁকে তলব করেছে। তার পরেই পরিচালক সনোজ মিশ্র এই আশংকা করেছেন। তাঁর দাবি, “আমি সন্ত্রাসবাদী নই। আমি কোনও অসাংবিধানিক কাজ করিনি। এই ছবিটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।” প্রশ্ন উঠছে তিনি এমন ফিল্ম বানালেন কেন যার ফলে তাঁর প্রাণসংশয় হতে পারে বলে নিজেই এখন তিনি ভয় পাচ্ছেন!
এই ফিল্মের ট্রেলারে পশ্চিমবঙ্গে “গণহত্যা, ধর্ষণ এবং হিন্দুদের দেশত্যাগ” ঘটনা ঘটছে বলে দেখানো হয়েছে। এটাও বলা হয়েছে যে বাংলা ভারতের নতুন কাশ্মীর।
এর পরেই পরিচালককে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, “এই মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি জানার জন্য” তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ফিল্মটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও নিন্দা করে বলা হয়েছে যে রাজ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে যা সম্পর্কে রাজ্য প্রশাসন উদাসীন অথচ এই বিষয়গুলি প্রশাসনের দেখা উচিত। রাজ্য সরকার এই সমস্যার দিকে নজর না দিয়ে উল্টে এই সমস্যা থেকে নজর ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এই ফিল্মের ট্রেলারে দেখানো হয়েছে, “বেকারত্ব পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় সমস্যা।” পরিচালক দাবি করেছেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার পরিবর্তে সরকারের উচিত এই বিষয়গুলির দিকে মনোনিবেশ করা।”
পরিচালক দাবি করেন, তাঁর সিনেমাটি বাংলার রাজনীতির বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং কোনও কিছুই তিনি ফিল্মে বেআইনি দেখাননি। স্ক্রিপ্টটি কয়েকটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করেই তৈরী করা হয়েছে।
সনোজ মিশ্রর দাবি, তাঁকে “হেকিং” করা হচ্ছে এবং তাঁর কণ্ঠকে স্তব্ধ করা হচ্ছে। তাঁকে ৩০ মে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। তবে পরিচালকের দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, “আমাকে বাংলায় ডেকে হত্যা করা হতে পারে। আমার বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে সেটা আমার কথা বলার অধিকারকে দমন করার চেষ্টা, যা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।” এর পাশাপাশি পরিচালকের দাবি, তিনি বেআইনি কিছু করেননি। তাঁর দাবি “আমি দেশবিরোধী নই। আমি এমনই একজন মানুষ যে সমাজের জন্য কাজ করে।”
জানা যাচ্ছে, এই পরিচালককে পুলিশ জিজ্ঞাসা করবে তিনি যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফিল্মটি বানিয়েছে তার ভিত্তি কি? তিনি কি এই সব তথ্য কোথায় পেয়েছেন? ‘তা কী তিনি দেখতে পারবেন? ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ছবির শ্যুটিং ৬০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। ছবির ট্রেলারও মুক্তি পেয়েছে আগেই। তাতে বাংলাকে ‘দ্বিতীয় কাশ্মীর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরাসরি ছবিতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। জনসংখ্যায় একটি সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, শরিয়ৎ আইনই চলবে, এমনও উল্লেখ করা হয়েছে ফিল্মটিতে। বাংলায় হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলছে, তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার পরও রাজ্যের সরকার একটি সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না বলে উল্লেখ রয়েছ ট্রেলারে। এই ঘটনাবলীকে সত্য ঘটনা নির্ভর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ফিল্মটিতে। পুলিশ পরিচালকের কাছে জানতে চাইবে, এই সত্য ঘটনা তিনি কোথা থেকে পেলেন? তাঁর কাছে এর কোনও প্রমাণ আছে কী?
‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ছবির নির্মাতা ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র সিংহ ত্যাগী। তিনি হলেন, উত্তর প্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম থেকে হিন্দু হয়েছেন তিনি। হরিদ্বারে আয়োজিত বিতর্কিত ধর্ম সংসদে ঘৃণাপূর্ণ ভাষণের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে ‘রাম কি জন্মভূমি’ নামে একটি ছবিও তৈরি করেন তিনি। প্রসঙ্গত বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা অমিত মালব্য “দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল” ফিল্মের ট্রেলারটি টুইট করেছেন। এই ঘটনায় প্রমাণ করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কালিমালিপ্ত করতেই এই ফিল্মটি তৈরী করা হয়েছে। আর এই ফিল্মের ট্রেলারে জাতপাত, ধর্ম, সংস্কার নিয়ে যা বলা হয়েছে সেই বিষয়গুলি উল্লেখ করে রাজ্যের ও দেশের বিজেপি নেতারা ভাষণ দেন।
❤ Support Us





