Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • এপ্রিল ১০, ২০২৫

ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত, ব্রাত্য কেবল চিন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত, ব্রাত্য কেবল চিন

চলমান শুল্কযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৯ এপ্রিল ওয়াশিংটনের পক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে চিন বাদে বাকি সব দেশের উপর ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে বিশ্বের অন্য দেশগুলি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, চিনের উপর আরো শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। ঘোষণা অনুসারে, আমেরিকার আমদানি হওয়া চিনাপণ্যর উপর এবার ১২৫ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানো হবে।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখলের পর, আমেরিকার বাজারে ভিন্ন দেশের পণ্যের উপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’-এর মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তালিকায় চিন, ভারত, কানাডা, রাশিয়া, ইজরায়েলের মতো দেশ ছিল। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছিল নয়া শুল্কনীতি নিয়ে অনেক দেশ আমেরিকার সঙ্গে আচোলনায় বসতে চাইছে। বিগয় কয়েকদিন ধরে ভারতের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে ট্রাম্প প্রশাসনের। বুধবার বিকেলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে শুল্ক নীতি নিয়ে পারস্পরিক তীব্র দ্বন্দ্বের আবহে, বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ২টি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেন। যা অন্যান্য দেশগুলির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও, বেজিংয়ের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর মনোভাবের যে কোনো পরিবর্তন হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যখন চিনের উপর ১০৪% শুল্ক বাড়িয়েছিল, তখন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন আমদানির উপর ৮৪% শুল্ক আরোপ করবার ঘোষণা করে চিন। যা আগের ৩৪% শুল্ক হার থেকে অনেকটাই বেশি। এদিন, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, তিনি চিনের উপর শুল্ক আরো বাড়িয়ে ১২৫% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে। এর ফলে নতুন করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব বিশ্ববাজারে ভয়ানকভাবে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্কনীতি ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অনান্য দেশের পাশাপাশি খোদ মার্কিন মুলুকেও এর প্রভাব পড়েছে। চলতি সপ্তাহে শেয়ার বাজার বিগত কয়েকবছরের সর্বনিম্ন পতন দেখেছে। বাদ পোড়েনি ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার মার্কেটও। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন এর ফলে আমেরিকা সহ অয়ান্য দেশে পণ্যের দাম বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, আমজনতার জন্য যা মোটেই সুখকর নয়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লাখ লাখ আমেরিকান রাস্তায় বিক্ষোভ সংগঠিত করেছেন। যদিও কেন হঠাৎ ‘খামখেয়ালি’ ট্রাম্প শুল্কনীতি স্থগিত রাখবার নির্দেশ দিয়েছেন তা পরিষ্কার নয়, কিন্তু হোয়াইট হাউসের তরফে এ ঘোষণা আসবার পর থেকেরি শেয়ার বাজার উর্দ্ধমুখী হতে শুরু করেছে। এদিন ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আশা করছি , কিছুদিনের মধ্যে চিন বুঝবে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে তাদের প্রতারণা আর চলবে না। সহ্যও করা হবে না।’

অন্যদিকে, ৭৫ টিরও বেশি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য, শুল্ক, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই দেশগুলি নয়া শুল্কনীতিতে আক্রান্ত হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। এই কারণেই ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য শুল্কযুদ্ধ থামিয়ে রাখলেন বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ সময়কালে ১০% হারে শুল্ক কমানোর ঘোষণাও করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভারত ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে সতর্কভাবে পয়া ফেলতে চাইছে। যদিও গত সপ্তাহে ভারতের তরফে পাল্টা ২৬% অতিরিক্ত শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। গত ৩ তারিখ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব ও তার কার্যকারণ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করছি। তিনি আরো জানান, ‘ ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। আমরা দ্রু সমাধানের পথ বেড় করতে চাই। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে অংশগ্রহণ করে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধে ভারতকে পাশে পেতে মরিয়া চিন। গতকাল ভারতের চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র সু জিং জানিয়েছিলেন, ‘সু জিং এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বলেছেন, বাণিজ্য এবং শুল্ক যুদ্ধে কোনও পক্ষই বিজয়ী হয় না। সব দেশকেই নিজেদের মধ্যে লাগাতার আলোচনার নীতি অনুসরণ করতে হবে। চর্চা করতে হবে প্রকৃত বহু-পাক্ষিকতার। একতরফা নীতি আরোপের সব ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে এক সঙ্গে প্রতিরোধ গড়তে হবে।’ ভারত ও চিনের অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি ও মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নয়া শুল্কনীতি আপাতত স্থগিত হলেও, মেক্সিকো, কানাডা সহ বেশিরভাগ দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক এখনো বহাল রইলো। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যে সব দেশ আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধে জড়ায় নি তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আগামী ৯০ দিন বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রকের সাথে লাগাতার আলোচনা করবে ওয়াশিংটন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা কখনোই ছিল না। বরং বিশ্বের দেশগুলিকে ট্রাম্পের সামনে গোলটেবিল বৈঠকে বসানোরত কৌশল। প্রশাসনের কেউ কেউ বলেছিলেন এটি স্থায়ী শুল্ক, আবার কেউ কেউ বলেছিলেন, এটি চুক্তির জন্য একটি কৌশলমাত্র। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ শুল্কনীতি স্থায়ী হতেই পারে, কিন্তো আলোচনাও চলতে পারে। শুল্কের বাইরেও আমাদের অনেককিছু দরকার।’ তবে বুধবার, স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট ‘কৌশল’ আর পরিকল্পনা অনুসারেই এগোচ্ছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!