Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • নভেম্বর ১৩, ২০২৫

‘সহযোগিতা, স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সেতুবন্ধন’, জি-৭ অধিবেশনে ভারতের সমুদ্রনীতি স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘সহযোগিতা, স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সেতুবন্ধন’, জি-৭ অধিবেশনে ভারতের সমুদ্রনীতি স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

জি–৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আউটরিচ অধিবেশনে ভারতের ‘মহাসাগর’ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বিশ্ব মঞ্চে আবারও জলে–স্থলে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা, মুক্ত চলাচল ও স্থিতিশীল বন্দর অবকাঠামোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণরস বইছে সমুদ্রপথে। সেই স্রোত যদি ব্যাহত হয়, ক্ষতি হবে সবারই।’

বুধবার কানাডার নিয়াগ্রায় জি–৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ‘সমুদ্র নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি’ শীর্ষক বৈঠকে অংশ নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত মনে করে সমুদ্র কেবল বাণিজ্যের মাধ্যম নয়, এটি সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির সেতুবন্ধ।’ তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের ‘মহাসাগর দৃষ্টিভঙ্গি’ ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার রূপরেখা তৈরি করেছে। জয়শঙ্কর জানান, ভারত এখন ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে এক ‘প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী’ দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভারত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যৌথ মহড়া, লজিস্টিক চুক্তি এবং তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরো মজবুত করছি।’

ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, আধুনিক বন্দর, নির্ভরযোগ্য জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা এবং বহুমুখী সামুদ্রিক সংযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারত শুধু নিজের নয়, গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতি বাড়াতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য সামুদ্রিক পথ, যাতে কোনো এক দেশের ওপর নির্ভরতা না থেকে সবার অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে স্থিতিশীল বাণিজ্য করিডর।’ পাশাপাশি জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক অপরাধ ও হুমকি— যেমন জলদস্যুদের উৎপাত, চোরাচালান এবং অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা ইত্যাদি বিষয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য ভাগাভাগি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ‘সমুদ্রপথে চলাচল ও সম্পদের ওপর কারও একক আধিপত্য চলবে না। আন্তর্জাতিক আইনই হবে আমাদের পথনির্দেশ।’ এ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দেন, ‘সমুদ্র আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ সনদ’ অবশ্যই মানা উচিত।’

আন্তর্জাতিক অধিবেশনে ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আমন্ত্রিত অংশীদার দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে। কানাডার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফাঁকে এস জয়শঙ্কর একাধিক বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সহ–সভাপতি কায়া কালাসের সঙ্গে। বিশেষ করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক উত্তেজনা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সংযোগ প্রকল্পের প্রসঙ্গ। জি–৭–এর মঞ্চে ভারতের এই সক্রিয় উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, পশ্চিমা জোটের এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারতের ভূমিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জয়শঙ্করের বলেছেন, ‘সমুদ্র আমাদের যুক্ত করে, বিভক্ত নয়। সহযোগিতার এই তরঙ্গই হবে আগামী দিনের বিশ্ব সমৃদ্ধির ভিত্তি।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!