- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৮, ২০২৫
বিহারে ৬৫ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকা প্রকাশ কমিশনের, আপত্তি-অভিযোগের সময়সীমা ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবশেষে প্রকাশিত হলো বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম।নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিহার-সহ গোটা দেশ।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা ২০২৫-এর মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কিন্তু এবারের খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম নেই, এমন ৬৫ লক্ষ নাগরিকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের ওয়েবসাইট এবং ইসি বিহার-এর সরকারি পোর্টালে। একইসঙ্গে ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত কার্যালয়, ও বুথ লেভেল অফিসেও এই তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটারদের সুবিধার্থে, একটি বিশেষ লিঙ্ক চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সহজেই খোঁজ নেওয়া যাবে, ভোটার তালিকা থেকে কারো নাম মুছে গেল কেন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, তালিকা তৈরি হয়েছে বুথ লেভেল অফিসার-দের পর্যবেক্ষণে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্ট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সহযোগিতায় কাজ করেছেন। ‘এএসডি’ অর্থাৎ অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত ভোটারদের নামই মূলত বাদ পড়েছে, জানিয়েছে কমিশন।
তালিকায় ভোটারের নাম, ইপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, আগের ভোটার তালিকার অংশ ও সিরিয়াল নম্বর, বয়স, লিঙ্গ এবং বাদ পড়ার কারণও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যাঁরা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন, তাঁরা আধার কার্ডের অনুলিপিসহ দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু অনলাইনেই নয়, তালিকাটি বুথভিত্তিকভাবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কার্যালয়ে এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভিতে এই সংক্রান্ত প্রচার চালানোর নির্দেশও দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার ৫৬ ঘণ্টার মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দল গত দু-দশক ধরে ভোটার তালিকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসেছে। সেই দাবি মেনেই বিহারে এই বিশেষ সংশোধন অভিযান শুরু করা হয়েছে।’ রাহুল গান্ধী-র ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ নিয়ে আরো একবার কড়া বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিন, জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, ‘ভোটারদের ছবি ব্যবহার করে যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্যপ্রচার হচ্ছে, তা নিন্দনীয়। যদি কারো কাছে কোনো তথ্য- প্রমাণ থাকে, তা হলে ৭ দিনের মধ্যে শপথপত্র জমা দিতে হবে, না হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’ লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দেখা হোক প্রক্সি বা ডুপ্লিকেট ভোট হয়েছে কি না। কিন্তু কমিশনের মতে, ‘সে ফুটেজ প্রকাশ করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে যেখানে অন্যান্য মহিলা ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা জরুরি।’
কমিশনের মতে, ভারতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও সর্বজনীন। জেলা সভাপতিরা এবং দলের বুথ স্তরের এজেন্টরাই স্বাক্ষর ও ভিডিও টেস্টিমোনিয়াল দিয়ে রিভিশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছেন। তবু কেন সে বার্তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনার। তিনি আরো জানান, জানুয়ারি ১, ২০২৫–এর নিরিখে বার্ষিক সংশোধন শুরু হওয়ায় এপ্রিল মাসে নতুন তালিকা তৈরি শুরু করা হলে তা তাড়াতাড়ি হতো, অন্যদিকে অক্টোবর মাসে শুরু করলে আসন্ন বিধানসভা ভোটের সঙ্গে সময়ের সংঘাত ঘটত। তাই সময়ের নিরিখে বিহারে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। ভোটারদের বাসস্থান সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ উঠলেও, কমিশনের বক্তব্য, ‘পঞ্চায়েত বা পুরসভাগুলি যথাযথভাবে বাড়ির নম্বর না দিলে অথবা বস্তি এলাকায় বৈধতা না থাকলে বিএলও-রা বহু দিন ধরেই কাল্পনিক বা ‘জিরো’ নম্বর দিয়ে ঠিকানা দেন। এ নতুন কিছু নয়। ১৯৬৬-র অসম, ১৯৮০-র রাজস্থান বা ১৯৮৫-র উত্তরপ্রদেশে একইভাবে ভোটার তালিকায় এমন নম্বর দেখা গিয়েছে।’ তালিকা ঘিরে বিতর্ক থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, সব রাজ্যেই ধীরে ধীরে ভোটার তালিকা সংশোধন হবে। বিহারের ‘বঞ্চিত’ জনগণের এখনই দাবি- আপত্তি জানানোর সময়। ১ সেপ্টেম্বরের পর অভিযোগ করলে কোনো লাভ হবে না।
❤ Support Us






