- দে । শ
- অক্টোবর ১২, ২০২৬
ফের ইডির অভিযান কলকাতায়, আর্থিক তছরুপের তদন্তে ৮ জায়গায় তল্লাশি
চিত্র সংগৃহিত
দেবীপক্ষের আবহে পুজোর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই ফের কলকাতায় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের অভিযোগের তদন্তে সোমবার সকালে শহরের আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। টালিগঞ্জ ও শরৎ বসু রোড-সহ কলকাতার একাধিক এলাকায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত সূত্রে খবর, মোটা অঙ্কের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে প্রতারণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অর্থ কীভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে অনুমান, বেআইনি আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা রিয়েল এস্টেট নির্মাণ সংস্থা-সহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সন্ধান পেতেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসেও একই আর্থিক প্রতারণা মামলার তদন্তে কলকাতার ১৭টি জায়গায় দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে পাওয়া তথ্য ও সূত্রের ভিত্তিতেই পুজোর আগে ফের নতুন করে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি বলে সূত্রের দাবি।
আর্থিক লেনদেনের জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর পিছনে কারা রয়েছেন, তা জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযানের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের নামে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম এবং টাকা পাচারের অভিযোগ ঘিরেও তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই দক্ষিণ কলকাতার দুটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি, দুটি সংস্থার দুই শীর্ষ কর্তার বাড়িতেও তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই আর্থিক লেনদেনের চক্রের বিস্তার শুধু কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই কারণেই একাধিক শহরে সমন্বিতভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এর আগে দিল্লি, কলকাতা ও বেঙ্গালুরু-সহ দেশের মোট ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার, বেআইনি বিনিয়োগ এবং বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের আড়ালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযানের মাধ্যমে কী কী তথ্য পাওয়া গেল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
❤ Support Us





