- দে । শ
- নভেম্বর ২৮, ২০২৫
চিকিৎসা পাঠে দুর্নীতি, দেশের ১০ রাজ্যে অভিযান ইডির । কেলেঙ্কারিতে যোগ স্বঘোষিত ধর্মগুরুর !
চিত্র সংগৃহিত
ঘুষ ও স্বীকৃতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের ১০টি রাজ্যের ১৫টিও বেশি জায়গায় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পরিদর্শক, দালাল, কলেজ প্রোমোটার, ডাক্তার এমনকি এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে দশটি রাজ্য জুড়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দলগুলি কাজ করছে।
ইডি–র তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ভারতের অন্যতম বৃহৎ মেডিকেল কলেজ ঘুষ ও স্বীকৃতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত। সিবিআইয়ের একটা প্রাথমিক এফআইআরের ভিত্তিতে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা জুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী পরিদর্শক, দালাল, কলেজ প্রোমোটার, ডাক্তার এমনকি একজন স্বঘোষিত ধর্মগুরুর এই কেলেঙ্কারিতে গভীর যোগসাজশ প্রকাশ্যে এসেছে।
দিল্লি থেকে ইডি অফিসাররা বৃহস্পতিবার ভোরবেলা রায়পুর পৌঁছন এবং শ্রী রাওয়াতপুরা সরকার মেডিকেল কলেজের পরিচালক অতুল কুমার তেওয়ারিকে তাঁর বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একইসঙ্গে, মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে তল্লাশি চলতে থাকে। তদন্তকারীরা আধিকারিকরা ক্যাম্পাসে প্রদত্ত ঘুষের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করেন। সিবিআই কর্তৃক আগেই গ্রেফতার হওয়া এবং এখন জামিনে থাকা তেওয়ারিকে এই র্যাকেটের মূল সংযোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইডি ইন্দোরের ইনডেক্স মেডিকেল কলেজেও অভিযান চালিয়ে অ্যাকাউন্ট বিভাগট সিল করে দিয়েছে এবং ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ইন্দোরের তদন্তে একটা গভীর জালিয়াতি সামনে এসেছে। কীভাবে পরিদর্শকদের বোকা বানানোর জন্য ভুয়ো অনুষদ, জাল উপস্থিতি এবং জাল অভিজ্ঞতার শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছিল।
সিবিআয়ের মতে, রায়পুরে শ্রী রাওয়াতপুরা সরকার মেডিকেল কলেজের জন্য একটা অনুকূল প্রতিবেদন তৈরির জন্য জাতীয় চিকিৎসা কমিশন পরিদর্শন দলের সদস্যরা ৫৫ লক্ষ টাকা হাওলা ঘুষ গ্রহণ করার সময় এই কেলেঙ্কারিটি প্রথম প্রকাশ পায়। পরিদর্শক দলের শীর্ষকর্তার এক সহকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা ৩৮.৩৮ লক্ষ টাকা এবং এক কর্তার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা আরও ১৬.৬২ লক্ষ টাকা। যা ঘুষের মামলা বলে মনে হয়েছিল, তা দ্রুত সমগ্র ভারত জুড়ে ষড়যন্ত্রে পরিণত হয়। যার মধ্যে রাজস্থান থেকে বিশাখাপত্তনম এবং গুরুগ্রাম থেকে ইন্দোর পর্যন্ত শক্তিশালী র্যাকেটের যোগসূত্র ছিল।
তদন্তকারীরা আবিষ্কার করেছেন যে, গোপনীয় পরিদর্শন ফাইলগুলি দিল্লিতে জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের অফিসের ভেতরে ছবি তোলা হচ্ছিল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কলেজ এজেন্টদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের ত্রুটিগুলি সংশোধন করতে, জাল নথিপত্র তৈরি করতে, অথবা পরিদর্শনের আগে ডামি রোগী এবং শিক্ষকদের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিল। এই গোপন ফাইলগুলি যাদের কাছে পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন গুরগাঁওয়ের বীরেন্দ্র কুমার, দ্বারকার মনীষা জোশী এবং উদয়পুরের গীতাঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ময়ূর রাভাল।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে অন্যতম হল রাওয়াতপুরা সরকার, যিনি রবিশঙ্কর মহারাজ নামেও পরিচিত। তিনি একজন বিতর্কিত ধর্মগুরু, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, তাঁর বিশ্বাস, হাওলা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে জাতীয় চিকিৎসা কমিশনের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য মেডিকেল কলেজের প্রবর্তকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রাওয়াতপুরা সরকারের নাম এফআইআর–এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বাবাকে প্রায়শই মন্ত্রী, আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যেত।
এই কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় প্রধান শাখাটি সুরেশ ভাদোরিয়ার পরিচালিত ইন্দোরের ইনডেক্স মেডিকেল কলেজে। সিবিআই কর্তাদের অভিযোগ, তারা ভুয়ো অনুষদ তৈরি করেছেন, বায়োমেট্রিক রেকর্ডে হেরফের করেছেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ভুয়ো রোগীদের নিয়োগ করেছেন। ভাদোরিয়া এবং রাওয়াতপুরা সরকার উভয়ই ভিন্দের লাহারের। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, এই সংযোগটি একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়তা করেছে, যা সারা দেশে চিকিৎসা স্বীকৃতিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। পরিকাঠামো কিংবা শিক্ষার মান নির্বিশেষে কলেজগুলি অনুমোদন পেতে ৩•৫ কোটি টাকা করে প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন যে, ৪০টিরও বেশি মেডিকেল কলেজ ঘুষ, জাল রেকর্ড এবং আপস করা পরিদর্শন ব্যবহার করে অনুমোদন পেয়েছে বা এমবিবিএস, পিজির আসন বাড়িয়েছে। পাঁচ মাস আগে সিবিআই দেশজুড়ে ৪০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছিল। বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানকে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক তদন্ত হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
❤ Support Us





