- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ২৫, ২০২৬
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় ইডি, কলকাতা সহ ৯ জায়গায় তল্লাশি
দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আবার সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। শনিবার ভোরবেলা পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এদিন ইডি–র কলকাতা জোনাল অফিসের দল একযোগে একযোগে কলকাতা, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকা সহ ৯টি স্থানে একাধিক প্রভাবশালী চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে।
শনিবার ভোরে হাবড়ার জয়গাছি নেতাজি রোডে ব্যবসায়ী সমীর চন্দের বাড়িতে প্রথমে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরে চাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ীর নাম রেশন দুর্নীতি মামলায় উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন, চাল কেনাবেচার উৎস, মূল্য এবং মান্ডিতে সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রীনগর রোডে ব্যবসায়ী সাগর সাহার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে পৌঁছে কিছু সময় দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। বারবার ডাকাডাকির পর দরজা খোলা হলে শুরু হয় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। পরিবারের সদস্যদেরও প্রশ্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইডির দাবি, রেশন দুর্নীতি মামলায় হাবড়ার অন্তত তিনজন চাল ব্যবসায়ীর নাম সামনে এসেছে। সে সূত্র ধরে আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, রেশনের সামগ্রী কালোবাজারিতে বিক্রি করা হচ্ছিল এবং এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়াও চলছিল। রাজ্য পুলিশের দায়ের করা একটা এফআইআর-এর ভিত্তিতেই ইডি তদন্ত শুরু করে। ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর বসিরহাট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ঘোজাডাঙ্গা এলসিএস–এর শুল্ক উপ–কমিশনার দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য বরাদ্দকৃত গণবণ্টন (পিডিএস) গম ব্যাপক আকারে আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে জানা গেছে যে, অভিযুক্তরা দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত গম অবৈধভাবে কম দামে কিনে সরবরাহকারী, রেশন ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে তা বাজারে বিক্রি করতেন। কোভিডের সময় প্রায় ৫ হাজার টনেরও বেশি গম বাংলাদেশে পাচার করার ছক কষা হয়েছিল। সে সময় শুল্ক দফতর তৎপর হয়ে ১৭১টি গম বোঝাই ট্রাক আটক করে। হিসাব বহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী সীমান্ত পার করানোর অভিযোগ উঠেছিল। যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রথমে রাজ্য পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু। পরে গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি।
উল্লেখ্য, এর আগে রেশন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দীর্ঘ কারাবাসের পর আপাতত তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এবারও তিনি হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে ওই এলাকায় ইডির এই অভিযান যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
❤ Support Us





