Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি, পুজো পরিক্রমার ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রিতে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি, পুজো পরিক্রমার ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রিতে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ

দুর্গাপুজোর আগে ‘পুজো পরিক্রমা’ বা ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার সাতসকালে কলকাতার কসবার বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।

শুধু কসবা নয়, কলকাতার মোট ১০টি জায়গায় একইসঙ্গে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক-সহ একাধিক এলাকায় অভিযান চলছে। তল্লাশির তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়রাও। হাইল্যান্ড পার্কের যে ঠিকানায় ইডি অভিযান চালিয়েছে, সেটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর বাড়ি বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি হুগলির সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এও পৌঁছেছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’ দেখানোর নামে বিশেষ পাস বিক্রি করা হতো। অভিযোগ, এই পাসগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজেদের কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রচারের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ বলেও দাবি করেছিল। যদিও সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অনুমতি ছাড়া ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় ছয় মাসের মধ্যে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। এই সংগঠনের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনও যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। গত জুন মাসে এই সংস্থা, ইন্দ্রনীল সেন এবং মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতার প্রায় ২৪টি দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রি করা হয়েছিল। ওই পাসগুলির জন্য ১,৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছিল, ইউনেস্কোই ওই ২৪টি পুজোমণ্ডপকে ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য বেছে নিয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, এই দাবির এখনও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পাস বিক্রির পরিমাণ নিয়েও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই পাস পাওয়ার জন্য নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। অভিযোগ, ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পাসগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের।

বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে তদন্তে নামে ইডিও। সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, তাঁর আত্মীয়দের ঠিকানা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বাড়ি এবং সিঙ্গুরের ‘মোহর’ বাগানবাড়ি-সহ মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তল্লাশি ও তদন্তের মাধ্যমে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহারের বিষয় এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!