- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৩, ২০২৩
আলিপুরে ব্যবসায়ীর বাড়ি–সহ নানা জায়গায় ইডি-র তল্লাশি
কালীঘাটের কাকু অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বুকে ব্যথা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ, বুধবার সকালে নানা নথির খোঁজে ফের তল্লাশি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মঙ্গলবারও ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসে’–এর অফিসে হয়েছে। আর বুধবার সকাল থেকেই আবার তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে আলিপুরের বেলভেডিয়ার রোডে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। সূত্রের খবর, ওই বাড়িটি ব্যবসায়ী জ্ঞানেশ চৌধুরীর। তবে আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে কয়েকদিন ধরেই ইডি’র তদন্তকারীরা শহরের নানা জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। আর তারপরই দেখা গেল হঠাৎ কালীঘাটের কাকুকে অসুস্থ হয়ে পড়তে। এখন কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই এমন ইডির তৎপরতা নিয়ে মঙ্গলবারই মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরেরদিনই এমন তল্লাশি অভিযান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভিন্ন জায়গায় চলছে ইডির অভিযান। আজ, বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আলিপুরের ১৫ নম্বর বেলভেডিয়ার রোডে জ্ঞানেশ চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছেন ইডির অফিসাররা।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, বেআইনিভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তদন্তের নামে অত্যাচার করা হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে। নাম না করে “ছেলোটা” মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, অভিষেক দেশে ফিরতেই আবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি বাড়বাড়ি শুরু করেছে। ইডির অভিযোগ, সাংসদ হওয়ার আগে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্ণধার ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে আছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোরে বলেন, ‘’আমাদের বাড়িতে রোজ অত্যাচার করছে। কাল সারারাত না জানিয়ে হঠাৎ চলে গিয়েছে চার–পাঁচটা জায়গায়। আমাকেও কেউ বলেনি। আমি সকাল ৬টায় জানতে পারলাম আইনজীবী মারফত। ছেলেটা সবে বিদেশ থেকে এসেছে। আর শুনছি বাবুরা বেরিয়ে পড়েছে।’’
এদিন আলিপুরের এই ব্যবসায়ীর আবাসনের ছ’তলায় ঢোকেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, তল্লাশি করার পর ব্যবসায়ী জ্ঞানেশ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডির তদন্তকারীরা। তিনি কোনও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কি না সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অভিযান বেলা পর্যন্ত চলবে।
এদিকে মঙৃগলবারই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ‘”আমার বাড়িতে কেউ গেল, বা আপনার বাড়িতে পুলিশ পাঠালাম। নিয়মটা কী? বাড়ির কাউকে জানাবে। বাড়ির কাউকে ডেকে কথা বলবে। রেড করতে হলে বাড়ির লোকেজনও থাকবে। তুমি একটা জায়গায় যাচ্ছ রেড করতে। তালা ভেঙে ঢুকছ, জানাচ্ছ না। বাড়িতে যদি কেউ না থাকে? যদি কেউ চা করার লোকও থাকে তাঁকেও ঘর থেকে বের করে দিচ্ছ। সে জানে না। তুমি যদি কারও বাড়িতে যাচ্ছ না জানিয়ে, তাঁর তো নিরাপত্তার কারণও আছে। তুমি যে লুকিয়ে বিস্ফোরক বা বন্দুক রেখে যাচ্ছ না, কে গ্যারান্টি দেবে। তুমি কয়েক কোটি টাকা নিজে বাক্স করে নিয়ে ঢুকছ না সেটা জানাবার কোনও জায়গা নেই। এটা বেআইনি।’”
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পরেও ইডির তল্লাশি থেমে থাকেনি উল্টে বুধবারও আলিপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি এবং আরও পাঁচ জায়গায় ইডি তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
❤ Support Us






