Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৪, ২০২৫

চাকরিহারা প্রার্থীদের পাশে থাকবার বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চাকরিহারা প্রার্থীদের পাশে থাকবার বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিমকোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৫২ জন। যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব হয় নি বলে এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বেতন ফেরত দেওয়া নিয়ে কোর্টের রায়ে নানান আলোচনা সমাচলনা হয়ে চলেছে। রায় ঘোষণার পর, গতকাল তড়িঘড়ি ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থদের নিয়ে বৈঠক সারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি-সিপিএমকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগ্য ও বঞ্চিত প্রার্থীদের মানসিক চাপ না নিতে ও ধৈর্য রাখতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। মানবিকতার খাতিরে পাশে থাকবার বার্তাও দিয়েছিলেন। আজ মুখ্যমন্ত্রীর কথারই পুনরাবৃতি করে চাকরিহারাদের পাশে থাকবার প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আগামী ৭ এপ্রিল নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের সাথে বৈঠক করবেন তৃণমূলনেত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, ‘আমরা যোগ্য-বঞ্চিতদের পাশে মানবিক এবং রাজনৈতিকভাবে থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের প্রতি সহযোগিতা এবং সমর্থন প্রদান করা। তবে কিছু বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যেমন ‘টেইন্টেড’ এবং ‘আনটেইন্টেড’ পরীক্ষার ফলাফল, কিংবা একজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে, কিন্তু অন্যজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে না– এ ধরনের বক্তব্যগুলো আমাদের তরফ থেকে বলা হয়নি। এসব কথা মূলত মহামান্য বিচারপতির রায়ের অন্তর্গত। বিচারপতির রায়ের ২৮ নম্বর অণুচ্ছেদে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, এসএসসি বা মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে আদালত সে তথ্যের উপর সন্তুষ্ট হয়নি। আদালত সে তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন নি।’

বাংলার বাতাসে কান পাতলে এখন চাকরিহারাদের আর্ত-চিৎকার। ‘বাতিল’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনেকেই শুক্রবার থেকে আর স্কুলে যাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই তথ্য ঠিক নয়। কাল মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কী কী করণীয়, তা বলে দিয়েছেন। আমাদের কাছে এমন তথ্য নেই যে, তাঁরা স্কুলে যাচ্ছেন না।’ তবে কি বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা স্কুলে যেতে পারেন? এরর উত্তরে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘ আমি এ কথা বলতে পারি না।’ তবে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীচারীদের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের উপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘এখন আমরা প্রধান বিচারপতির রায়ের পর আরো কধাপ এগিয়ে এসেছি। পুরো পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছি। আমরা যাঁরা যোগ্য-বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব, যেন সমাজের সব স্তর থেকে তাদের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রদর্শিত হয়। আমি সকলের কাছে একটি আবেদন জানাব, যারা এই পরিস্থিতির মধ্যে আছেন তারা যেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।’ তিনি আরো জানান, এসএসসি ও চাকরিহারা ব্যক্তিদের আইনি পরামর্শ নিয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি পুরো ঘটনায় বিরোধীদের চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন ব্রাত্য, এদিনও বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শোনা গেল তাঁকে। এদিকে, চাকরি বাতিলের ইস্যু নিয়ে বিকাশ ভবন অভিযান করছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। মিছিল থেকে রাজ্যের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তাঁদের অভিযোগ, ‘ রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কারণেই শীর্ষ আদালত এই রায় দিতে বাধ্য হয়েছে। এর দায় রাজ্য সরকারকেই নিত্যে হবে। যোগ্যদের পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, ব্রাত্য বসুর পাশাপাশি এদিন মুখ খুলেছেন এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছেন, ‘আইনি ব্যাখ্যা না নিয়ে কোনো পদক্ষেপ ক্রতে পারব না। প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আমাদের বহু কাজ করতে হবে। সে নিয়ে ইতিমধ্যে কমিশনের অন্তর্বর্তী বৈঠক হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠিও পেয়েছি।’ তবে সুপ্রিম কোর্টের নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ রায় নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে নি। কবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে, কী পদ্ধতিতে সে প্রক্রিয়া হবে উত্তর মেলেনি এসএসসির চেয়ারম্যনের কাছ থেকে। সিদ্ধার্থবাবু বলেছেন, ‘কারা নিয়োগে অংশ নেবে, কাদের ক্ষেত্রেই বা ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে বেশ কিছু সংশয় আছে। রায়ের বয়ান আমাদের কাছে এখনো ১০০ শতাংশ স্পষ্ট নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!