- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
মেক্সিকোতে সেনা অভিযানে নিহত কুখ্যাত ‘এল মেঞ্চো’: মার্কিন সহায়তায় গোপন অপারেশন, দেশজুড়ে অশান্তি
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিয়ো ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস, ওরফে নেমেসিয়ো ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস (এল মেঞ্চো), রবিবার ভোরে দেশটির সেনাবাহিনীর এক গোপন অভিযানে নিহত হয়েছেন। মেক্সিকো সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযানের আগে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা রাওটার্সকে জানিয়েছেন, এ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বাধীন একটি টাস্ক ফোর্সের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
৬০ বছর বয়সি মেঞ্চো একসময় পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তিনি মাদক পাচারের জগতে প্রবেশ করে দ্রুতই মেক্সিকোর অপরাধ জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বিশ্বের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাদক পাচারকারীদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল শীর্ষে। মাদক পাচারের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি ও মানবপাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। রবিবারের অভিযানে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় বিকেলে ন্যাশনাল গার্ডের কড়া নিরাপত্তায় তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় মেক্সিকো সিটি-তে। তবে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। মেঞ্চোর অনুগামীরা একাধিক প্রদেশে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হয়, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি ও দোকানে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলা-র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে গ্রেফতার করে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশেই ওই অভিযান চালানো হয় বলে জানানো হয়েছিল। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারচক্র পরিচালনা ও আমেরিকায় মাদক পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়, এবং বর্তমানে তিনি মার্কিন কারাগারে বন্দি। মাদুরো-অভিযানের সময়েই ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকোকে কড়া বার্তা দিয়েছিল—মাদক সন্ত্রাস দমনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মার্কিন বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে। রবিবারের অভিযানকে অনেকেই সেই সতর্কবার্তার বাস্তবায়ন বলেই মনে করছেন। মাদুরোর গ্রেফতারের পর থেকেই চাপের মুখে ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম। এখন এল মেঞ্চোর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে হিংসা ও অস্থিরতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সামাল দেওয়াই তাঁর সরকারের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
❤ Support Us






