- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৮, ২০২৫
ভোট চুরির অভিযোগের পর মুখোমুখি সংঘাতে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী জোট, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ চেয়ে সংসদে প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা
নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যে, INDIA বিরোধী জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সংসদে একটি প্রস্তাব আনতে পারে বলে জোটসূত্রে খবর।
সোমবার সকালে সংসদে বিরোধী দলগুলোর এক বৈঠকে, নির্বাচন কমিশন প্রধানকে অপসারণের প্রস্তাব আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়ার মতো। এর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস করাতে হয় এবং অপসারণের ভিত্তি হতে হবে “প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতা”।
এই পদক্ষেপের ভাবনা আসে সেই সময়েই, যখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান INDIA জোটের ভোট জালিয়াতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর “ভোট চুরি” মন্তব্যের কড়া জবাবে, জ্ঞানেশ কুমার বলেন, এমন “অশোভন শব্দ ব্যবহার” সংবিধানকে অপমান করার শামিল।
রবিবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারতের ভোটারদের আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ কমিশন সবসময় ভোটারদের পক্ষে আছে। তিনি বলেন, কমিশনের দৃষ্টিতে সব রাজনৈতিক দলই সমান, এবং কমিশন কখনোই সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে পার্থক্য করে না।
এদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি কর্ণাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেন। এখন তিনি বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা শুরু করেছেন — এই যাত্রা রাজ্যের ২০টি জেলায় ১,৩০০ কিমি পথ অতিক্রম করবে। কংগ্রেস ও তাদের মিত্র আরজেডি বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করেছে, অভিযোগ করে যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে মিলে ভোটার তালিকা বিকৃত করছে এবং শাসকদলের সুবিধা করে দিচ্ছে।
এই অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান বলেন, “এক কোটির বেশি সরকারি কর্মকর্তা, ১০ লক্ষের বেশি বুথ লেভেল এজেন্ট এবং ২০ লক্ষেরও বেশি পোলিং এজেন্ট লোকসভা নির্বাচনে কাজ করেন। এত লোকের সামনে এবং এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে কেউ কি ভোট চুরি করতে পারে? কিছু ডাবল ভোটিংয়ের অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু আমরা প্রমাণ চাইলেও কিছুই দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগে নির্বাচন কমিশন বা ভোটার কেউই ভয় পায় না।”
মহাদেবপুরা নিয়ে অভিযোগ করার পর, কর্ণাটক রাজ্য নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীকে শপথ নিয়ে ঘোষণা দিতে বলেছিল যে তিনি ভোটার তালিকায় অনিয়ম পেয়েছেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, তিনি যে তথ্য দিয়েছেন, তা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব তথ্য।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কুমার জোর দিয়ে বলেন, “শপথনামা দিতেই হবে, না হয় জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই। সাত দিনের মধ্যে শপথনামা না দিলে ধরে নেওয়া হবে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসের হুসেন বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজেপির মুখপাত্রের মতো কথা বলেছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমাদের যেসব সাংবিধানিক অধিকার আছে, সব ব্যবহার করব।”
এই খবরের পর বিজেপি বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে। রাজ্যসভার সাংসদ রাধামোহন দাস আগরওয়াল বলেন, “মূর্খদের কাছ থেকে এর বেশি আর কী আশা করা যায়? আমি তো অবাক হই যে, ওরা এখনও সুপ্রিম কোর্ট আর হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধেও ইমপিচমেন্ট আনেনি।”
❤ Support Us







