- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৫, ২০২৫
এসআইআর জটিলতা মেটাতে জেলায় জেলায় কমিশনের হেল্পডেস্ক, বিরোধিতায় পথে নামছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন
আগামী বছরের ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া বা এসআইআর কার্যকর করতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় কাজ শুরু নভেম্বরের শুরু থেকেই। যা নিয়ে সরগরম বঙ্গীয় রাজনীতি। জনমানসে তৈরি হওয়া প্রস্ন আর জটিলতা মেটাতে এবার এ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রতিটি জেলায় হেল্পডেস্ক স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জানা যাচ্ছে, এই হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ভোটাররা ফর্ম পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি, জমার স্থান এবং সংশোধনী সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরে ইআরও এবং এইআরও বা বিডিও অফিসে হেল্পডেস্ক খোলা হবে। রাজ্য সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের সুবিধার জন্য এই হেল্পডেস্ক চলবে ২৪ ঘণ্টা। এসআইআর-এর সবচেয়ে বড়ো সুবিধা পরিযায়ী শ্রমিকরা পাবেন বলে দাবি কমিশনের। এবার তাঁরা নিজের কর্মস্থল রাজ্য থেকেই অনলাইনে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আগের মতো নিজের রাজ্যে ফিরে আসার প্রয়োজন থাকবে না। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে চলছে। মুখ্য নির্বাচনী অফিসার জানিয়েছেন, বুথ লেভেল অফিসারদের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, এ প্রক্রিয়ায় কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্য কাজে বদলি করা যাবে না। তবে এ প্রক্রিয়া ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ তুলেছে, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে আসলে এনআরসি-এর জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, ‘ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন-এর মাধ্যমে দরিদ্র, দলিত, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্বের বিপদ তৈরি হচ্ছে।’
সংগঠনগুলো শনিবার কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করার ডাক দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভোটারদের জন্মস্থান, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, জন্মতারিখ, স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভোটার কার্ডে দেখা যাবে না। ‘এগুলো সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য এনআরসি বা নাগরিকত্ব যাচাই করা’ দাবি আয়োজক সংগঠনের নেতা রঞ্জিত শূরের।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ম্যাপিং ও ম্যাচিং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ভোটার তালিকা মিলানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাওড়ায় ৩৮ শতাংশ, হুগলিতে ৫৬ শতাংশ, দক্ষিণ মেদিনীপুরে ৬৪ শতাংশ এবং বাঁকুড়ায় ৭৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জানিয়েছেন, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও নাগালের মধ্যে আনার জন্য জেলা পর্যায়ের হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটাররা সহজে আবেদন, আপত্তি ও সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য পাবেন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনকে মানুষ-বান্ধব করা এবং বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতায় এ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামী শনিবার, ১ নভেম্বর থেকে বাংলায় শুরু হতে চলেছে। কমিশন সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ২০২৬ সালে বাংলাসহ অন্যান্য নির্বাচনী রাজ্যেও এই প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
❤ Support Us






