Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

‘এসআইআর’ ঘিরে কমিশনের অন্দরে তীব্র মতবিরোধ ! ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তির দাবি দুই শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘এসআইআর’ ঘিরে কমিশনের অন্দরে তীব্র মতবিরোধ ! ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তির দাবি দুই শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তার

‘এসআইআর’ ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে। যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে প্রবল বিতর্ক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অন্ধকারে রাখার অভিযোগ তুলেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশী। অভিযোগ, গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা নিয়ে তাঁরা মোট ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এমনকি একটি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা নিয়ে একই দিনে চার বার আপত্তি জানানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের আপত্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

সূত্রের খবর, বিশেষ করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর সময় ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে দুই কমিশনার একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। দুই কমিশনারের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁদের যথেষ্ট তথ্য না জানিয়েই ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা এবং নাম বাদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কমিশনের একটি সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ এবং অননুমোদিত’ বলেও আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ সম্প্রতি কিছু পরিবর্তন আনা হয়। নতুন ভোটারদের জানাতে বলা হয়, আগের এসআইআর-এ তাঁদের বাবা বা পিতামহের নাম রয়েছে কি না। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনে সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ফর্ম বদলানো উচিত নয় বলে আগে সতর্ক করেছিলেন সাঁধু। কিন্তু সে আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
গত ১৩ আগস্ট ফর্ম ৬-এর ওই পরিবর্তনকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন সাঁধু। বাবা বা পিতামহের সঙ্গে ভোটারের ম্যাপিং সংক্রান্ত বিষয়টি দ্রুত সরিয়ে ফেলার পক্ষেও মত দেন তিনি।

ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দুই কমিশনার। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা তৈরির কাজ যে ভাবে আগে বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতিতে পরিচালিত হত, বর্তমানে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব মূলত নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের হাতে থাকার কথা। আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ ‘ইআরওনেট’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হত। বর্তমানে তা ‘ইসিআইনেট’-এ স্থানান্তরিত হয়েছে। ইআরওদের ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কার্যত কমানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাঁধু ও জোশী।

 

আগস্টে সাঁধু অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকদের ‘ইআরওনেট’ পোর্টালে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। সাঁধুর বক্তব্য ছিল, আইন অনুযায়ী ওই পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। ‘এসআইআর’-এর পর পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে জমা পড়া আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের তরফে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর পরে প্রায় ৩৮ লক্ষ আবেদন ট্রাইবুনালের কাছে জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২.২১ লক্ষ আবেদন বাদ পড়া নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। অন্য দিকে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রায় ১৬.১০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে।

এই আবেদনগুলি কারা করেছে, তা কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সম্মতি দেওয়ার পরেও কারা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানালেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাঁধু। আগস্ট মাসে কমিশনকে লেখা এক চিঠিতে সাঁধু জানতে চান, কমিশনের হয়ে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করার অনুমতি কাদের দেওয়া হয়েছিল এবং কারা সেই আবেদনগুলি করেছেন। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তিনি নিজে, নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—কেউই অবগত ছিলেন না।

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাংবিধানিক অবস্থান অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের তুলনায় কিছুটা আলাদা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত একক ভাবে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কমিশনের সিদ্ধান্ত সাধারণত তিন কমিশনারের মতৈক্যের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই চূড়ান্ত হয়। সে ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর পদাধিকার বলে অতিরিক্ত প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না।
বর্তমানে দেশের তিন নির্বাচন কমিশনারই কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে গঠিত প্যানেল নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নেয়।

২০২৪ সালের মার্চে সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরের বছর জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বিবেক জোশীকে নির্বাচন কমিশনার করার সময়ও তৎকালীন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আপত্তি জানান। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্যানেলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দুই ক্ষেত্রেই বিরোধী পক্ষের আপত্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কার্যকর হয়নি


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!