- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
মঙ্গলবার ‘এসআইআর’-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, সোমবারই বিলএলও অ্যাপে। নিজের নাম যাচাই করবেন কীভাবে?
পশ্চিমবঙ্গের লাখো লাখো ভোটারের আশঙ্কা আর উদ্বেগের মাঝে মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ‘এসআইআর’-এর খসড়া ভোটার তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, তালিকা ইতিমধ্যেই বুথস্তরের অফিসার বা বিএলওদের হাতে চলে এসেছে। তারা স্থানীয় ভোটারদের নাম যাচাই শুরু করেছেন। বুথ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত অফিস, পুরসভা কার্যালয়, মহকুমা শাসকের দফতর এবং জেলাশাসকের দফতর, সমস্ত জায়গায় তালিকা টাঙানো হবে। ভোটাররা চাইলে নিজের নাম নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অথবা ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ থেকেও খুঁজে দেখতে পারবেন।
অনলাইনে খসড়া তালিকা পরীক্ষা করতে গেলে ব্যবহারকারীকে ‘SIR FINAL PUBLICATION 2025’ সেকশনে গিয়ে ‘SEARCH YOUR NAME IN DRAFT ROLL’-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর রাজ্য ও এপিক নম্বর দিলে তার নাম তালিকায় আছে কি নেই, তা দেখা যাবে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকায় থাকা নাম চূড়ান্ত হিসেবে নেওয়া যাবে না। এ তালিকা মূলত ভোটারদের তথ্য যাচাই করার জন্য প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ভুল বা অনুপস্থিত নাম ঠিক করা যায়। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, খসড়া তালিকা থেকে মৃত ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত, নিখোঁজ এবং একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দেননি, তাদের নামও তালিকায় নেই। রবিবার পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮। বাকি ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে। কমিশন একই সঙ্গে একটি ভিন্ন তালিকাও প্রকাশ করবে, যেখানে ম্যাপিং-এ হদিশ না মেলানো ভোটারদের তথ্য থাকবে। মূলত, মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রাজ্যের প্রতিটি বুথে এই তালিকা বিএলও ও বিএলএ-২-এর উপস্থিতিতে টাঙানো হবে এবং অনলাইনে বুথ, বিধানসভা এবং জেলা ভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।
যারা নাম বাদ পড়েছে, তাদের এখনই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ‘এসআইআর’-এর নিয়ম অনুযায়ী, ডুপলিকেট না হওয়া ভোটাররা ফর্ম ৬-এর অ্যানেক্টার ৪ সঠিকভাবে পূরণ করে নির্বাচন কমিশনের হিয়ারিং-এ অংশ নিতে পারবেন। ভার্চুয়াল হিয়ারিং-এর সুবিধা থাকায় ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরোতে হবে না। হিয়ারিং শেষে ভুল তথ্য সংশোধনের পর তাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শুনানি শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে। ডাক পাবেন তারা, যাদের ২০০২ সালের তথ্যের সঙ্গে ২০২৫ সালের তথ্য মিল পাওয়া যায়নি। যাদের এনুমারেশন ফর্মের অংশ ঠিকমতো পূরণ হয়নি বা যাদের তথ্য জমা দেওয়ার সময় ত্রুটি ধরা পড়েছে। এরপর বুথস্তরের অফিসাররা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা যাচাই করবেন। যদি সংশয় থাকে, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আলাদা করে শোনা হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া তালিকার প্রকাশের পর প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম থাকবে। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও সফটকপি দেওয়া হবে। তবে খসড়া তালিকায় শুধুমাত্র মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নামই বাদ পড়েনি; একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটার এবং যারা ফর্ম পূরণ করেননি, তাদের নামও বাদ থাকবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নিজের নাম যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য বা অনুপস্থিত নাম দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভোটারদের জন্য এটি শুধুই একটি যাচাই প্রক্রিয়া নয়, বরং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
❤ Support Us




