Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • জুলাই ১১, ২০২৫

ভারতের বাজারে পা রাখল মাস্কের ‘ইভি’, টেসলার প্রথম শো-রুম মুম্বাইয়ে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতের বাজারে পা রাখল মাস্কের ‘ইভি’, টেসলার প্রথম শো-রুম মুম্বাইয়ে

অবশেষে এলন মাস্কের টেসলা ভারতে তাদের প্রথম শোরুমের দরজা খুলতে চলেছে। আগামী ১৫ জুলাই মুম্বইয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতির শীর্ষে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতার প্রথম ‘এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’। ভারতের বাণিজ্য রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি সারছে মার্কিন ইভি-দৈত্য। বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাপর্বের।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ইলনের বহুজাতিক সংস্থাটি মুম্বইয়ের একটি অভিজাত এলাকায় বিশাল একটি জায়গা লিজে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। সে সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল—আসছে টেসলা। অবশেষে সেই গুঞ্জন সত্যি হয়ে ধরা দিল। দেশের বাণিজ্যের শহরকেই প্রথম কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে মাস্কের সংস্থা। তবে শুধু মুম্বইতেই থেমে থাকছে না টেসলার পরিকল্পনা। সূত্রের খবর, দিল্লি-এনসিআর এলাকাতেও শো-রুম খোলার তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মুম্বাইয়ে শো-রুম খোলার মধ্য দিয়ে ভারতের প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হতে চলেছে। তবে মডেল ও দামের তালিকা দেখে অনেকেই বলছেন, আপাতত দেশের সীমিত সংখ্যক উচ্চবিত্ত ক্রেতাই হতে চলেছেন টেসলার প্রধান লক্ষ্য। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, টেসলা ইতিমধ্যেই চিনের সাংহাই কারখানা থেকে তৈরি ৫টি মডেল-ওয়াই রিয়ার-হুইল ড্রাইভ গাড়ি ভারতে এনেছে। প্রতিটি গাড়ির ঘোষিত মূল্য ২.৭৭ মিলিয়ন রুপি। কিন্তু আমদানি শুল্ক, সারচার্জ এবং অন্যান্য কর মিলিয়ে এই গাড়ির উপরে পড়েছে প্রায় ২.১ মিলিয়নেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ। অর্থাৎ এক একটি গাড়ির চূড়ান্ত খরচ প্রায় পাঁচ মিলিয়নের কাছাকাছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই গাড়ির দাম যেখানে কর বাদ দিয়ে ৩৭ হাজার ডলারের কিছু বেশি, ভারতে তা গিয়ে ঠেকছে প্রায় ৫৬ হাজার ডলারে। প্রশ্ন উঠছে, দাম আর শুল্কের চাপ টেসলার বিক্রিতে কী প্রভাব ফেলবে? কারণ, ভারতে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার এখনো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রয়ের ৫ শতাংশের সামান্য বেশি। তার মধ্যে প্রিমিয়াম গাড়ির অংশীদারি রয়েছে ২ শতাংশেরও কম। ফলে, টেসলার মতো বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের গাড়ি সাধারণ ভারতীয় ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে যাবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

ভারতের বাজার ধরতে চাইলেও, এখানে উৎপাদনের বিষয়ে আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই টেসলার। ভারী শিল্পমন্ত্রী কুমারস্বামী গত মাসে সংসদে জানিয়েছেন, মাস্কের সংস্থা এ পর্যন্ত ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র বা কারখানা তৈরিতে আগ্রহ দেখায়নি। শুধু বিক্রয় কেন্দ্র ও শো-রুম গড়ে তোলার দিকেই নজর তাদের। এমনকি কেন্দ্রের ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত যে স্কিম নিয়ে একাধিক পরামর্শমূলক বৈঠক হয়েছে, সেখানে প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও পরবর্তী সভাগুলিতে অংশ নেয়নি টেসলা। তবু মার্কিন ইভি নির্মাতার ভারতে প্রবেশকে হালকাভাবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ, একদিকে বিশ্বের বাজারে ইউরোপ ও চিনে টেসলার বিক্রি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, ভারত ক্রমশই বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল গাড়ির বাজার হয়ে উঠছে। ফলে টেসলা চাইছে, যত দ্রুত সম্ভব তারা এখানে অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিতে। ইতিমধ্যে সংস্থা বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ শুরু করেছে। বিক্রয়, বিপণন, টেকনিক্যাল সাপোর্ট, সার্ভিস স্টাফ—সব বিভাগেই কর্মী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুম্বইয়ের পর দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো শহরেও সম্ভাব্য শোরুম ও পরিষেবা কেন্দ্রের জন্য জায়গা খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

টেসলার ভারতে পথচলা শুরু হচ্ছে এভাবেই। বহুমুল্যের গাড়ি ও সীমিত পরিসরের ক্রেতাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ভবিষ্যতে তারা যদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে আসে, ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে যোগ দেয়, তাহলে বদলে যেতে পারে ছবিটা। আপাতত ১৫ জুলাই মুম্বইয়ের উদ্বোধনের দিকে তাকিয়ে ভারতের গাড়িপ্রেমীরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!