- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ১১, ২০২৫
জিএসটি জটিলতায় ওষুধ বাজার: রাজ্যজুড়ে নেই সুগার-প্রেশারের ওষুধ, বিপাকে সাধারণ মানুষ
নতুন সংশোধনে অষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু দ্রব্যে জিএসটি কমেছে বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ওষুধের খরচ কমার বদলে বেড়েছে দুর্ভোগ। নতুন হারে জিএসটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বহু জরুরি ওষুধ উধাও। ইনসুলিন, সুগার ও প্রেসারের ওষুধ থেকে শুরু করে কোলেস্টেরল, ইউরিক অ্যাসিড, প্রস্টেট ও ব্যথার ওষুধ— সবেতেই ঘাটতি। দোকানদারদের একাংশ বলছেন, লোকসান ঠেকাতে তাঁরা আপাতত নতুন স্টক তোলায় রাশ টেনেছেন। কেউ আবার বলছেন, বেশিরভাগ ওষুধের স্টক ফুরিয়ে গিয়েছে। যা আছে, তা শেষ হওয়ার পথে। যতক্ষণ না নতুন জিএসটি হারে ছাপা ওষুধ আসে, আমরা স্টক বাড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছি না। নেবও না। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।
সম্প্রতি প্রয়োজনীয় পণ্যে আমজনতার খরচ কমাতে বেশ কিছু জরুরি ওষুধে জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। ওষুধভেদে ৪.৭৭ থেকে ১১.০২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে কর। কিন্তু তার জেরে উলটপুরাণ। পুরনো দামে কেনা ওষুধ এখন কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। ফলে খুচরো দোকানদারদের একাংশের দাবি, ‘এই হারেও ৬-৭ শতাংশ লোকসান হচ্ছে। তাই আপাতত ধীরে চলো নীতি।’ রাজ্যে ওষুধের দোকানের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তার মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশই খুচরো ব্যবসায়ী। যাঁদের অধিকাংশেরই বার্ষিক লেনদেন ৪০ লক্ষ টাকার নীচে। ফলে তাঁদের জিএসটি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়। অনেকেই রয়েছেন কম্পোজিট স্কিমের আওতায়। এমত অবস্থায় হঠাৎ জিএসটি কমে যাওয়ায় পুরনো স্টক বিক্রি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ওষুধ কোম্পানিগুলিও ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি, সংস্থাগুলি আগে পুরনো স্টক বাজার থেকে সরাতে চাইছে। নতুন জিএসটি হারে ছাপা ওষুধ আসতে এখনো বেশকিছুটা দেরি আছে। সময় আছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তার আগে নতুন প্রিন্টে ওষুধ উৎপাদনে যেতে নারাজ বহু সংস্থা। ফলে বাজারে নেই বহু বহুজাতিক সংস্থার ইনসুলিন কার্টিজ। ট্রামাডোল গ্রুপের ব্যথার ওষুধও অমিল। নেই রোসুভাসটাটিন বা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণকারী জনপ্রিয় ওষুধের একাধিক ব্র্যান্ড। এমনকী, মেদ কমানোর নির্দিষ্ট ইনজেকশনও হদিস নেই বাজারে। চাপ আরো বাড়িয়েছে উৎসব। দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো, টানা ছুটির জেরে বেশ কিছু দিন বন্ধ ছিল স্টকিস্ট সেন্টার। লক্ষ্মীপুজোর পরে খুললেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি সরবরাহ। এর মধ্যেই জিএসটি রেট বদলের জেরে দোকানদারদের সফটওয়্যারেও বদল আনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, গোটা ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।
তবে সকলেই অভাবের দাবি পুরোপুরি মানছেন না। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিসিডিএ)-র শীর্ষকর্তা শঙ্খ রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ হয়তো অমিল। কিন্তু বিকল্প ব্র্যান্ড রয়েছে। সামগ্রিক ভাবে ওষুধের অভাব নেই।’ চিকিৎসকদের একাংশ এবং রোগীরা বলছেন, সব বিকল্প সব রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। বহু রোগীর নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে অভ্যেস গড়ে ওঠে। পরিবর্তন অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই আপাতত প্রশ্ন একটাই, এই জট কখন কাটবে? ব্যবসায়ীদের আশা, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ছাপা ওষুধ বাজারে আসবে। কিন্তু ততদিন? তার আগে কি পুরনো ওষুধ ফুরিয়ে যাবে না? তার জবাব এখনই নেই কারো কাছে। ফলে সুগার বা প্রেসারের রোগীরা হাতের ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই ছুটছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। কোথাও হয়তো বিকল্প মিলছে। কোথাও সেটুকুও নয়।
❤ Support Us






