- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ১, ২০২৬
জম্মু-কাশ্মীরে ফের জঙ্গি হামলার ছক? ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তে অস্ত্র-গোলাবারুদ ফেলল পাকিস্তান
শীতের সকালে জম্মু-কাশ্মীরে ভারত-পাক সীমান্তে ফের উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার ভোরে লাইন অফ কন্ট্রোলের জম্মুর পোনচ জেলায় ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে খাদি কারমারা এলাকায় চক্কর কাটতে থাকা পাকিস্থানি ড্রোনটি ফেলে গিয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক, কার্তুজ এবং মাদক। সেগুলি উদ্ধার করে, গোটা এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। নিরাপত্তা সূত্র আরো জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং গোলাবারুদ বিশদ পরীক্ষার পর জানা যাবে ওগুলি কতটা প্রাণঘাতী বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহারযোগ্য।
নিরাপত্তা সূত্রের খবর, পাক ড্রোনটির এই কার্যক্রম থেকে অনুমান করা হচ্ছে, উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা ছদ্মবেশী জঙ্গিদের জন্য সরবরাহ পাঠানো হয়েছিল এইসব অস্ত্রসস্ত্র। সাধারণত প্রবল শীতে প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে তুষারাবৃত উপত্যকায় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর নজর এড়িয়ে প্রবেশ করে থাকে। শীত শেষে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়। প্রশ্ন উঠছে, এবারও কি উপত্যকায় নতুন হামলার পরিকল্পনা চলছে? সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাক ড্রোন নজরে আসার পরই পোনচ এবং কিশ্তওয়ারের পাহাড়ি অঞ্চল জুড়ে যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। সেনারা পাশাপাশি গোয়েন্দারা গোপন সূত্র সক্রিয় করে জঙ্গিদের গতিবিধি খতিয়ে দেখছে। সেনার রোমিও ফোর্স ইতিমধ্যেই পির পাঞ্জালের তুষারময় পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং স্নিফার কুকুর ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এছাড়া পাঠানকোট–জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়েতে যানবাহন চেকিং বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্মরণ করিয়ে দিতে হয় গত বছরের এপ্রিল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে কয়েকদিন টানাপড়েন চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে শীতকালীন অভিযান এবং ড্রোন কার্যক্রম বারবার প্রমাণ করে, পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, জম্মুর কিশ্তওয়ার ও ডোডা অঞ্চলে গত ৯ দিন ধরে তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযানটি মূলত জইশ-ই-মোহাম্মদের সাইফুল্লাহ এবং তাঁর ডেপুটি আদিলকে ধরার উদ্দেশ্যে। তাঁদের মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা।
❤ Support Us






