- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৪, ২০২৪
তারাতলায় বন্ধ ব্রিটানিয়ার বিস্কুট কারখানা, রাতারাতি কর্মহীন কয়েক শো কর্মী
কর্মসংস্থানে বাংলার দুর্ভাগ্যের দিন যেন শেষ হতে চায়না। । কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন বহু বাসিন্দা। চারিদিকে চাকরির চরম হাহাকারের মাঝে শিবরাত্রির সলতের মতো কিছু বেসরকারি সংস্থা টিকে ছিল। আজ তাও নিভু নিভু । কলকাতার তারাতলার ঐতিহ্যশালী ব্রিটানিয়া বিস্কুটের কারখানাটি আজ থেকে তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিল। ফলে কাজ হারালেন বহু শ্রমিক।
জানা গিয়েছে , গত মে মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ ছিল। আজ পাকাপাকিভাবে তালা ঝুলল কারখানার গেটে। কাজ হারালেন ১২২ জন স্থায়ী ও ২৫০জন অস্থায়ী কর্মী। যদিও কি কারণে উৎপাদন বন্ধ হল, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন শ্রমিকেরা।
শোনা গিয়েছে স্থায়ী শ্রমিকেরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীরা তা পাননি। কী হবে তাঁদের পরিবারের ও তাঁদের ভবিষ্যৎ, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আড়াইশো অস্থায়ী কর্মী। ১৮৯২ সালে পথ চলা শুরু করে এই কারখানাটি । তারপর একে একে অনেক ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী হয়ে অবশেষে পাকাপাকি অবসরে গেল সে। শুধু কি কোম্পানির কর্মীরা? ওই কারখানার কর্মীদের কেন্দ্র করে বহু মানুষের অন্ন সংস্থান হত। মন খারাপ তাঁদেরও । কারখানার সামনে ছোট ছোট খাবারের দোকানের মালিকেরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারখানা বন্ধ হলে চলবে কি করে?
কোম্পানির স্থায়ী কর্মীদের বক্তব্য, সংস্থা জানিয়েছিল যে , প্রতিযোগিতার বাজারে তাঁরা টিকে থাকতে পারছেন না । ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন । এহেন পরিস্থিতিতে যথারীতি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অ্যাজেন্ডা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে সরব হয়েছেন কেউ কেউ। রাজ্যে একাধিক কোম্পানি তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়ে অন্য রাজ্যে ঘাঁটি গাড়ছে। অনেক সংস্থা এই রাজ্যে বিনিয়োগ করতেও চাইছেনা। বছর বছর বিজনেস সামিটে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাঁচতারা হোটেলে এসে ওঠেন নামী শিল্পপতিরা।তারপর এই রাজ্যের জন্য তাঁদের চিন্তাভাবনার কথা শুনিয়ে বিদায় নেন। তারপর ? হাতে থেকে যায় পেন্সিল। রাজ্যে বিনিয়োগের যে তিমিরে থাকার কথা সেখানে রয়ে যায়। রাজনৈতিক দলগুলি কিছুদিন সক্রিয় থাকে। তারপর সাধারণ শিক্ষিত যুবকদের অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতামান সম্পন্ন কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। সিঙ্গুরের টাটা হোক বা ডানলপের কারখানা,জেসপ বা বার্ন স্ট্যান্ডার্ড– চিত্রটা একই। আজ সেই তালিকায় যুক্ত হল ব্রিটানিয়ার তারাতলার ইউনিট।
❤ Support Us






