Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৩০, ২০২৫

মুম্বইয়ে গ্রেফতার ভুয়ো বিজ্ঞানী ! পারমাণবিক তথ্য ফাঁসের সন্দেহ, উদ্ধার নথি, জাল পাসপোর্ট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মুম্বইয়ে গ্রেফতার ভুয়ো বিজ্ঞানী ! পারমাণবিক তথ্য ফাঁসের সন্দেহ, উদ্ধার নথি, জাল পাসপোর্ট

দেশের শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার –এর নাম ভাঙিয়ে বিজ্ঞানী সেজে দীর্ঘদিন ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তিনি। মুম্বই পুলিশের হাতে ধৃত আকতার কুতুবউদ্দিন হুসাইনি নামের ওই ভুয়া বিজ্ঞানীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সন্দেহজনক পারমাণবিক তথ্য, ১৪টি মানচিত্র এবং একাধিক জাল সরকারি নথি। উদ্ধার হওয়া ওই সব কাগজপত্রে সংবেদনশীল বা গোপন তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

গত সপ্তাহে ভারসোভা এলাকা থেকে ধৃত হুসাইনি নিজেকে কখনো আলি রেজা হুসাইন, কখনো আলেকজান্ডার পামার পরিচয় দিতেন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নকল আধার, প্যান, পাসপোর্ট, এমনকি বিএআরসি–এর ভুয়া পরিচয়পত্রও। সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে হুসাইনি একাধিক আন্তর্জাতিক নাম্বারের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। পুলিশ এখন তার কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে। সন্দেহ, বিদেশি কোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পারমাণবিক তথ্য বাইরে পাচার করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, হুসাইনির পরিচয় বদল ও ছদ্মবেশে থাকার অভ্যাস বহু পুরনো। ২০০৪ সালে দুবাই থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কারণ সেখানে নিজেকে ‘বিজ্ঞানী’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। বহিষ্কারের পরও ভুয়া পাসপোর্টের জোরে ফের দুবাই, তেহরান-সহ বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান ওই ব্যক্তি।

জামশেদপুরের বাসিন্দা আকতার হুসাইনি ১৯৯৬ সালে নিজের পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করলেও, সেই পুরনো ঠিকানাকে ভরসা করে বছর কয়েক পরে নানা নথি জোগাড় করেন তিনি। তদন্তে উঠে এসেছে, হুসাইনির ভাই আদিলের মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় হয় ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা মুনাজ্জিল খানের সঙ্গে। পুলিশের ধারণা, মুনাজ্জিল ওই দুই ভাইয়ের জন্য ২ টি জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিল—একটিতে নাম হুসাইনি মোহাম্মদ আদিল, অন্যটিতে নাসিমুদ্দিন সাঈদ আদিল হুসাইনি। দুই পাসপোর্টেই ব্যবহার করা হয়েছিল জামশেদপুরের পুরনো বাড়ির ঠিকানা। তদন্তকারীদের মতে, ওই জাল পরিচয়পত্র ও নথি ব্যবহার করেই হুসাইনি ভাইরা বিদেশ সফর করতেন। ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশ আকতারের ভাই আদিল হুসাইনিকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু তদন্তে বিভ্রান্তি তৈরি করতে আকতার জেরার মুখে দাবি করেন, তার ভাই বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, মুনাজ্জিল খানের ভাই ইলিয়াস খানও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। আকতারকে নকল স্কুল ও কলেজের সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিয়েছিল সে-ই। ইলিয়াস এখন পলাতক, তাঁর খোঁজে চিরুনিতল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। আকতার হুসাইনি শুধু জাল পরিচয়পত্র তৈরি নয়, উত্তরপ্রদেশে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো এবং জনসাধারণের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগেও ওয়ান্টেড। মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ বিএআরসি’–এর নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করে থাকে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখছি। উদ্ধার হওয়া নথিগুলির মধ্যে কিছু পারমাণবিক তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’ মামলার তদন্ত এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ, ধৃতের বিদেশি যোগাযোগ, তার ভুয়া পরিচয় ও সন্দেহজনক পারমাণবিক তথ্য — সব মিলিয়ে এই মামলার পরিধি স্থানীয় পুলিশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!