Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫

বাজেট কৃষকবিরোধী, ফুঁসছে শস্যগোলা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাজেট কৃষকবিরোধী, ফুঁসছে শস্যগোলা

কেন্দ্রের ‘কৃষক বিরোধী’ বাজেটে ক্ষোভ আর হতাশা ছড়াল রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে। এবারের বাজেটে কমানো হয়েছে সারের ভর্তুকি। গতবারের বাজেটে সারে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। এবার তা কমিয়ে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কানাকড়িও বাড়ানো হয়নি ১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে। গতবারের বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই বরাদ্দই অপরিবর্তিত আছে। ভর্তুকি ছাঁটাই হয়েছে রেশনের বরাদ্দেও। গতবার ছিল ২ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকা। এবারের বরাদ্দ ২ লক্ষ ৩ হাজার টাকা। এইসবের ফলে গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের সর্বনাশ ডেকে আনবে বলে মনে করেন জেলার কৃষকরা। পূর্ব বর্ধমান জেলা ‘কৃষি ও কৃষক বাঁচাও’ কমিটির সম্পাদক অনিরুদ্ধ কুণ্ডু বললেন, ‘সম্পূর্ণ কৃষি ও কৃষক বিরোধী বাজেট। কৃষিঋণ মকুব হচ্ছে না। সারের ভর্তুকিতে ছাঁটাই। আমরা এই বাজেটের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নেব।’
বাজেটে বিকল্প কৃষি, উৎপাদন, বিপণনে জোর দেওয়ার ঘোষণাকে ‘ঠাট্টা’ তকমা দিয়ে রাজ্য তৃণমূল কৃষক সংগঠনের নেতা তথা কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ বললেন, ‘বিকল্প কৃষি ব্যবস্থার পরিকাঠামো তৈরি না করেই গুরুত্ব দানের কথা বলা হচ্ছে। যা মোটেই কৃষকদের উৎসাহিত করবে না।’ সিপিএমের কৃষক সংগঠনের রাজ্য নেতা অচিন্ত্য মল্লিকের মন্তব্য, ‘কৃষিতে ঋণদানের কথা বলা হয়। কিন্তু সেই ঋণ পেতে কৃষকদের হাজারো ঝক্কি পোয়াতে হয়। ব্যাঙ্ক চরম অসহযোগিতা করে। ফলে তারা মহাজনের দ্বারস্থ হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন।’ অচিন্ত্যবাবু মনে করেন, ‘এবারের বাজেটে কৃষকদের নয়, ফড়েদের পোয়াবারো।’
এই বাজেটে সারের ব্যাপারে ঘোষণায় অত্যন্ত হতাশ কৃষকরা। কাটোয়ার কৃষক প্রশান্ত পাল, নাদনঘাটের সরিফুল শেখ, কেতুগ্রামের বিজয় মণ্ডলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সার বা কীটনাশকের দাম না কমালে চাষে লাভ মেলে না। কিন্তু এই দুটোতেই ভর্তুকি ছাঁটাই করে বিজেপি সরকার কৃষকদেরকে বঞ্চিত করল। কৃষকদের ক্ষোভ, আলু চাষ বা ধান চাষের মরশুমে কেন্দ্র সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে সার না পাঠানোর ফায়দা তোলেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দাম হাঁকেন। নিরুপায় হয়েই কৃষকদের অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার কিনতে হয়। বাজেটে কিসান ক্রেডিট কার্ড বা দুগ্ধ ও মৎস্য শিল্পে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবেও খুশি নন কৃষকরা। তাদের যুক্তি, চাষে যদি লাভই না হয়, তাহলে বেশি ঋণ পেয়ে কী হবে! বাজেটে ঘোষিত হয়েছে, আসামে সার উৎপাদন কারখানা। অথচ পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের সার উৎপাদন কারখানাটি বন্ধ। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জির কথায়, ‘এই কারখানাটি খোলা হলে একদিকে সারের জোগান পর্যাপ্ত হত। অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়ত। অথচ বাজেটে এই দিকটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!