- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ২২, ২০২৩
কমিশনারের নিয়োগ জটিলতায় প্ৰশ্নের মুখে পঞ্চায়েত নির্বাচন !
রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন কি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে? পর পর কিছু ঘটনাক্রম সাজালে এমনই একটা ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমত রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের জয়েনিং রিপোর্ট নবান্নে ফেরত পাঠিয়ে বলছেন, “আমি ভরসা করে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করেছিলাম। আমি মনে করেছিলাম তিনি শান্তিতে রাজ্যে নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু দেখলাম রাজ্যের মানুষ তাঁর ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। রক্তপাত, প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। কমিশনারের কাজ এক ফোটা রক্ত না ঝরিয়ে নির্বাচন করা। এক ফোটা রক্তপাত হলে সেই দায় কমিশনারকেই নিতে হবে।”
রাজ্যপালের এই মন্তব্য শুনলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে তিনি যে কমিশনারের জয়েনিং রিপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন সেটা তিনি তাঁর ভাবনা চিন্তার ফল হিসেবেই করেছেন। তার অর্থ হচ্ছে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে ওই পদে রাজ্যপাল শপথ নেওয়ালেও তিনি তাঁর জয়েনিং রিপোর্টে সই করেননি।
প্রশ্ন উঠছে কেন রাজ্যপাল ৮ জুনের পর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের জয়েনিং অর্ডারে সই না করে কেন ফেলে রেখেছিলেন? তিনি কি কোনও সূত্র মারফত জানতে পেরেছিলেন রাজ্যে মনোনয়ন পর্ব নিয়ে অশান্তি হবে, কমিশনার তাতে কোনও ভূমিকা নেবেন না। তারপর সেই বিষয়টি আদালতে যাবে এবং আদালত কমিশনারকে বলবে আপনি কাজ করতে না পারলে পদ ছেড়ে দিন, রাজ্যপাল নতুন কমিশনার নিয়োগ করবেন?
এদিকে রাজ্যপালের এই জয়েনিং রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি আদৌ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে খাতায় কলমে? মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু বলছেন “উনি শপথ নেওয়ানোর কাজ করেছেন, কমিশনার শপথ নিয়ে পদে বসেছেন।” তাহলে রাজ্যপালের কমিশনারের জয়েনিং রিপোর্টে সই না করার মানে কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
আইনজীবী রিজু ঘোষাল এই প্রসঙ্গে বলেন, “রাজ্যপাল যখন বলছেন তখন তাঁর কাছে নিশ্চই তথ্য আছে। তাই বলতে পারি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে যাঁর নিয়োগই সম্পূর্নই হয়নি তিনি দায়িত্ব পাওয়ার আগেই কি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাজ পরিচালনা করেন? আইনত তাই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সব কাজকেই বেআইনি বলা যেতেই পারে। তাই এই নিয়ে মামলা হলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।”
আইনজীবীরা বলেছেন, “রাজ্যপালের কথায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ সম্ভব নয়। তবে রাজ্যপাল যদি কমিশনারের জয়েনিং রিপোর্টে সই না করেন তাহলে তো তাঁর নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি। আর যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ সম্পূর্ণই হয়নি তিনি কি ভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাজ করেন? এর ফলে পুরো পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যেতে পারে।”
❤ Support Us





